২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে আর্জেন্টিনা ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখার সময় বুয়েনোস আইরেসের এক হোস্টেলে কর্মরত তরুণ রেনেকে উদ্দেশ্য করে একটি চিঠি লিখেছিলেন এক বাঙালি পর্যটক। সেই চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, রেনে যদি বাংলাদেশে আসে তবে যেন বিশ্বকাপের সময় আসে, কারণ তখন নীল-সাদা পতাকা দেশের অসংখ্য বাড়ির ছাদে উড়তে দেখা যাবে। ফকল্যান্ড যুদ্ধে নিহত সৈনিকদের স্মৃতিসৌধ রেনে আর কখনো দেখতে না এলেও সময় সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন লেখক। বর্তমান বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ফুটবল উন্মাদনা প্রত্যক্ষ করতে বহু আর্জেন্টাইন সাংবাদিক, ব্লগার ও পর্যটক এসেছেন, যা লেখকের কাছে মনে হয়েছে একজন রেনের পরিবর্তে শত শত রেনে পৌঁছেছে।

চিঠিটিতে লেখক আর্জেন্টিনায় কাটানো স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছেন। হোস্টেলে রান্না করে রাখা মাংস ফ্রিজ পরিষ্কার করতে গিয়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনা, আর্জেন্টিনার বিখ্যাত 'আসাদো' ও বাংলাদেশের 'মেজবানি মাংস'-এর তুলনা, এবং বুয়েনোস আইরেসের রাস্তায় মেসির গ্রাফিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি লাতিন ফুটবলের নান্দনিকতাকে ইউরোপীয় ফুটবলের 'যন্ত্রের মতো' কৌশলের বিপরীতে রেখেছেন, যেখানে লাতিন ফুটবল মাটি থেকে উঠে আসা, যন্ত্রণা ও উচ্ছ্বাসের মিশেল।

লেখক উল্লেখ করেছেন, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মানুষ দু'ভাগে বিভক্ত হয়—একভাগ আর্জেন্টিনার পতাকা ধরে, অন্যভাগ ব্রাজিলের। তিনি আর্জেন্টিনার মেসির প্রতি ভালোবাসা ও রোজারিও শহরে নবজাতকের নাম 'মেসি' রাখার প্রবণতার কথাও স্মরণ করেছেন। চিঠির শেষে তিনি রেনেকে তার প্রেমিকাসহ বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং বলেছেন, লাতিন ফুটবল প্রেমিক-প্রেমিকার চুম্বনের মতো সুন্দর, যা ক্ষীণ যৌনানুভূতি ধারণ করে। চিঠিটি পরে লেখকের ভ্রমণগ্রন্থ 'লাতিনের নাটাই'-তে স্থান পেয়েছে এবং বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষে তা আবার প্রকাশ করা হয়েছে।