ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত ট্রফিগুলোর একটি আজও রহস্যের আড়ালে। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপের জন্য তৈরি এই ট্রফির নাম ছিল ‘ভিক্টরি’, তবে সাধারণভাবে এটি ‘কাপ দ্যু মঁদ’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৪৬ সালে ফিফার দীর্ঘমেয়াদি সভাপতি জুলে রিমের সম্মানে এর নামকরণ করা হয় ‘জুলে রিমে ট্রফি’।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ট্রফিটি নাৎসিদের হাত থেকে বাঁচাতে অত্তোরিনো বারাসি নামে এক ইতালিয়ান ফুটবল কর্মকর্তা রোমের ব্যাংকের ভল্ট থেকে সরিয়ে নিজের বিছানার নিচে জুতার বাক্সে লুকিয়ে রেখেছিলেন। পুরো যুদ্ধকালীন সময় ট্রফিটি সেখানেই ছিল এবং যুদ্ধ শেষে অক্ষত অবস্থায় ফিফাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপের আয়োজনের সময় ট্রফিটি লন্ডনের এক প্রদর্শনী থেকে ২০ মার্চ চুরি যায়। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড তদন্ত শুরু করলেও কোনো সন্ধান মেলেনি। এক সপ্তাহ পর ডেভিড করবেট নামে এক ব্যক্তি তাঁর পোষা কুকুর পিকলসকে নিয়ে হাঁটতে বেরিয়ে একটি গাড়ির পাশে খবরের কাগজে মোড়ানো প্যাকেট দেখতে পান। পিকলসের আগ্রহ দেখে করবেট প্যাকেটটি খুলে দেখেন ভেতরে সেই নিখোঁজ ট্রফি। এই আবিষ্কারের পর পিকলস ইংল্যান্ডজুড়ে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠে এবং ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হলে রাজকীয় ভোজেও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী কোনো দেশ তিনবার চ্যাম্পিয়ন হলে ট্রফিটি স্থায়ীভাবে পেয়ে যেত। ১৯৭০ সালে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রথম দেশ হিসেবে ব্রাজিল জুলে রিমে ট্রফি স্থায়ীভাবে লাভ করে। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের দপ্তরে বুলেটপ্রুফ কাচের মধ্যে রাখা ছিল এটি। কিন্তু ১৯৮৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর রাতে সদর দপ্তর থেকে ট্রফিটি চুরি হয়ে যায়। চুরির ঘটনায় চারজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও ট্রফির আর কোনো খোঁজ মেলেনি। ধারণা করা হয়, চোরেরা ট্রফিটি গলিয়ে ফেলেছে, তবে এই তত্ত্বের পক্ষে শক্ত প্রমাণ নেই। ১৯৮৩ সালের সেই রাতের পর ফুটবলের সবচেয়ে আইকনিক ট্রফিগুলোর একটির পরিণতি ইতিহাসের পাতায় আজও অমীমাংসিত রহস্য হয়ে রয়েছে।




