ঢাকার পল্লবী এলাকায় এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে মো. রুবেল ওরফে ‘ল্যাংড়া’ রুবেল প্রধান আসামি হিসেবে পরিচিত। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মিরপুর বিভাগ এ অভিযান পরিচালনা করে। মঙ্গলবার দুপুরে ডিবির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত সোমবার রাতে সাভার, গাজীপুর ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া অন্য চারজন হলেন বাপ্পা ওরফে শাকিল, হামিদুর ওরফে মাখন, পারভেজ ও রাব্বি। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুটি গুলি, দুটি ম্যাগাজিন এবং ঘটনায় ব্যবহৃত প্রাইভেট কারসহ দুটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। অতিরিক্ত এক হাজার ইয়াবা বড়িও জব্দ করা হয়েছে।
গুলির ঘটনার পরপরই আসামিরা ঢাকার বাইরে পালিয়ে গিয়েছিল বলে পুলিশের ভাষ্য। তবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। শুক্রবার বিকেলে মিরপুর–১১ নম্বর সেকশনের ‘বি’ ব্লকের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন। সেই সময় একটি প্রাইভেট কার থেকে নেমে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে আলমগীরের মাথা ও পিঠে তিনটি গুলি লাগে এবং ঘটনাস্থলে থাকা এক পথচারী নারীও আহত হন।
আলমগীর বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানে তিনি জানান, প্রাইভেট কার থেকে নেমে চারজন সন্ত্রাসী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে এবং পরে সেই গাড়িতেই পালিয়ে যায়। তিনি হামলাকারী দুজনকে চিনতে পেরেছেন বলে জানান — যুবলীগের রুবেল ও বাপ্পী। আলমগীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য। এই ঘটনায় তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, রাজনৈতিক শত্রুতা বা পূর্বশত্রুতার জের ধরে এই হামলা হতে পারে, তবে তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত জানা যাবে।




