২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আসরটি বদলি খেলোয়াড়দের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৯৬টি ম্যাচে মোট ২৬৬টি গোল হয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি গোল এসেছে বদলি হিসেবে মাঠে নামা ফুটবলারদের পা থেকে, যা মোট গোলের ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বদলি খেলোয়াড়দের অবদান এবারের বিশ্বকাপে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচে পাঁচজন বদলি নামানোর নিয়ম এবং যুক্তরাষ্ট্রের কঠিন আবহাওয়ায় খেলোয়াড়দের ক্লান্তি দূর করার কৌশল এই প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। বিশেষ করে যোগ করা সময়ে বেশি সংখ্যক গোল হচ্ছে, যার অধিকাংশই বদলি খেলোয়াড়দের করা।
মিকেল মেরিনোর কথা না বললেই নয়। স্পেনের এই মিডফিল্ডার ডাগআউটে সময় কাটালেও প্রয়োজনীয় মুহূর্তে মাঠে নেমে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন। শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে তিনি বদলি হিসেবে নেমেছিলেন যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে। এরপর তার কাছ থেকে আসা গোলটি পর্তুগালের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ করে দেয়। শুধু তাই নয়, বেলজিয়ামের বিপক্ষে পরবর্তী নকআউট ম্যাচেও একই কাহিনী। বদলি নেমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন, যা দলকে জিততে সাহায্য করে। বিশ্বকাপের ভিন্ন নকআউট ম্যাচে বদলি নেমে জয়সূচক গোল করা প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন মেরিনো। মজার ব্যাপার হলো, দুই ম্যাচ মিলিয়ে তিনি মাঠে মাত্র ৯ মিনিটের বেশি সময় কাটিয়েছেন।
রোমেলু লুকাকু আরেকজন বদলি খেলোয়াড় যিনি নিয়মিত সফলতা পাচ্ছেন। নিউজিল্যান্ড, সেনেগাল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচগুলোতে তিনি গোল করেছেন বদলি হিসেবে নেমে। বিশ্বকাপে বদলি নেমে তার করা মোট গোলের সংখ্যা এখন ৪টি। এই কীর্তি তাকে ক্যামেরুনের কিংবদন্তি রজার মিলারের পাশে স্থান দিয়েছে। তবে স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ায় এবার তার এই সংখ্যা আর বাড়ানোর সুযোগ নেই।
জার্মানির ডেনিস উনদাভের গল্পও কম চমকপ্রদ নয়। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ম্যাচে বদলি নেমে তিনি দুই গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। নিজে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়েও গোল করিয়েছেন। জার্মানি শেষ পর্যন্ত বিদায় নিলেও উনদাভ নিয়মিত একাদশে না থেকেও বিশ্বকাপে তিন গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন। এক বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে এত বেশি গোলের সাথে যুক্ত থাকার রেকর্ড আগে শুধু ১৯৯০ সালে ক্যামেরুনের রজার মিলারের ছিল।
শুধু গোল করাতেই নয়, গোল করানোর ক্ষেত্রেও বদলিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ইংল্যান্ড যখন কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে সমস্যায় পড়েছিল, তখন বদলি নেমে অ্যান্থনি গর্ডন দুটি অ্যাসিস্ট করে দলকে স্বস্তি এনে দিয়েছেন। আর সেনেগালের ইলমান এনদিয়ে ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচে বদলি নেমে গোল, অ্যাসিস্ট, প্রতিপক্ষের বক্সে পাঁচটি স্পর্শ ও পাঁচটি ড্রিবল করার কীর্তি গড়েছেন—যা বিশ্বকাপে প্রথম।
তবে সব বদলি খেলোয়াড়ই সফল নন। অস্ট্রেলিয়া কোচ মিসরের বিপক্ষে টাইব্রেকারের ঠিক আগে নিয়মিত গোলকিপার প্যাট্রিক বিচকে বদলে ম্যাট রায়ানকে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ফাটকা কাজে আসেনি এবং মিসর ম্যাচটি জিতে যায়। তাই বদলি নেমেই যে সোনার ডিম পাড়া যাবে তা নয়। বিশ্বকাপে বেঞ্চ থেকে নেমে নিজেদের প্রমাণ করার লড়াই চলছেই।




