ভলিবল বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ কার্চ কিরালি বিশ্বাস করেন, অলিম্পিক পদক জয়ের আসল প্রস্তুতি শুরু হয় বহু বছর আগে, যখন কেউ তা দেখে না। ফোর্বসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সাফল্যের ভিত্তি তৈরি হয় হাজার হাজার অনুশীলন, অসংখ্য কথোপকথন এবং নজরের বাইরে থাকা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। তার ভাষায়, প্রতিভা ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারে, কিন্তু টেকসই সাফল্য ও অলিম্পিক পদকের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী দলীয় সংস্কৃতি।

কিরালি একমাত্র ক্রীড়াবিদ যিনি ইনডোর ও বিচ ভলিবলে অলিম্পিক স্বর্ণপদক জিতেছেন। মার্কিন নারী জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে তিনি টোকিও অলিম্পিকে দলকে প্রথম স্বর্ণপদক এনে দেন। এরপর প্যারিস অলিম্পিকে দলটি রুপা জেতে। বর্তমানে তিনি একই দর্শন প্রয়োগ করছেন মার্কিন পুরুষ দলের জন্য, যারা ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নারী দলের টোকিও সাফল্য ছিল বিশেষ। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে স্বর্ণপদকের অপেক্ষায় থাকা দলটি কোভিড মহামারির কারণে সৃষ্ট অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেয়। কিরালি বলেন, দলটি অসাধারণ টুর্নামেন্ট খেলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটায়।

তবে প্যারিস অলিম্পিকে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। পূর্ববর্তী অলিম্পিক চক্রে প্রত্যাশিত ফলাফল না আসায় দলের ওপর প্রশ্ন ছিল। সেই সময়ে সেটার জর্ডান পোল্টার গুরুতর হাঁটুর চোট কাটিয়ে অলিম্পিকের আগে ফিরে আসেন। কিরালির মতে, পোল্টারের পুনর্বাসন বেশ নির্জন ও চ্যালেঞ্জিং ছিল, কিন্তু তিনি সময়মতো দলে ফিরে ফাইনালে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এই অভিজ্ঞতা থেকে কিরালি শিক্ষা নেন যে সুস্থ বা সবচেয়ে প্রতিভাবান দল নয়, বরং প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষম দলই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়।

প্যারিসে পুল পর্বে চায়নার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল তার উজ্জ্বল উদাহরণ। মার্কিন দল প্রথম দুই সেটে পিছিয়ে পড়লে কিরালি বিকল্প খেলোয়াড়দের নামান, যাদের তিনি 'সাবস্টিটিউট' না বলে 'গেম চেঞ্জার' বলেন। এই শব্দটি তিনি প্রাক্তন মার্কিন নারী ফুটবল কোচ জিল এলিসের কাছ থেকে নিয়েছেন। অ্যাভারি স্কিনার ও ক্যাথরিন প্লামার ম্যাচে এসে গতিপথ পাল্টে দেন এবং পঞ্চম সেটে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র হেরে গেলেও কিরালি মনে করেন, সেই ম্যাচটিই টুর্নামেন্টের টার্নিং পয়েন্ট ছিল।

নারী দলের এই মানসিকতা ও সংস্কৃতি এখন পুরুষ দলেও প্রভাব ফেলছে। ম্যাট অ্যান্ডারসন, টিজে ডিফ্যালকোর মতো অভিজ্ঞ অলিম্পিয়ান ও ইথান চ্যাম্পলিন, জর্ডান এওয়ার্টের মতো তরুণরা একত্রে কাজ করছে। কিরালির মতে, তার প্রধান দায়িত্ব কে শুরু করবে তা ঠিক করা নয়, বরং প্রজন্মের মধ্যে আস্থা ও সমন্বয় গড়ে তোলা। এই রসায়ন ভবিষ্যতে যেকোনো কৌশলগত সিদ্ধান্তের চেয়ে বেশি মূল্যবান প্রমাণিত হতে পারে।

কিরালি মনে করেন, অলিম্পিক স্বর্ণ পদক অর্জিত হয় নীরবে, বহু সাধারণ দিনের পরিশ্রমে, বিশ্বের পর্দা উঠার বহু আগেই। ২০২৮ সালের জুলাইয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে যখন শিখা প্রজ্বলিত হবে, দর্শকরা দেখবেন শুধু চূড়ান্ত ফল। কিন্তু কিরালি জানবেন, এর গোড়াপত্তন হয়েছিল অনেক আগে—খালি জিমনেশিয়ামে, কঠিন মুহূর্তের আলোচনায়, অনুশীলন শেষে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোতে এবং এক একজন করে সতীর্থের মাধ্যমে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা সংস্কৃতিতে। এটাই হয়তো তার সবচেয়ে বড় অলিম্পিক উত্তরাধিকার।