ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় এক শিল্পপতির বাড়িতে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে মো. রহমত আলী (৪৩) নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তার। তিনি পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের নরসিংদী সদর উপজেলার একটি শাখায় ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার খাগালিয়া গ্রামে। তাঁর স্ত্রী কাকন বেগম ও দুই কন্যাসন্তান রয়েছে, যারা ষষ্ঠ ও প্রথম শ্রেণিতে পড়ে।
ঘটনার দিন রোববার বিকেলে সাজ্জাদ মোর্শেদ সোহানের আমন্ত্রণে ঢাকা থেকে ফরিদপুরে যান রহমত আলী। সঙ্গে ছিলেন নাসিরনগর সরকারি কলেজের প্রভাষক মাইনউদ্দিন শান্ত, সাংবাদিক নেহারেন্দু চক্রবর্তী ও উপজেলার কলিকুন্ডা গ্রামের হোসাইন আহমেদ। সেখানে পান্না গ্রুপের মালিক লোকমান হোসেনের বাংলোবাড়ি ও কারখানা ঘুরে দেখেন তারা। রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সবাই।
সন্ধ্যার দিকে রহমত আলী সঙ্গীদের সঙ্গে নাচগান করছিলেন। হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বুকে ব্যথা অনুভব করেন। সঙ্গীরা প্রথমে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাত সাড়ে আটটার দিকে তাকে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক জ্যোতি প্রকাশ জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকের মতে, তিনি কী খেয়ে অসুস্থ হয়েছিলেন তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রহমত আলী মদ পান করেছিলেন। পরে তাঁর বুকে ব্যথা শুরু হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের সুরতহাল করার সময় মুখ থেকে কোনো গন্ধ পাওয়া যায়নি এবং শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না।
পান্না গ্রুপের মালিক লোকমান হোসেন বলেন, মোট আটজন তাঁর বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে সোহান নামের একজন ব্যবসাসূত্রে তাঁর পরিচিত। বাকি সাতজন সোহানের বন্ধু, যাদের তিনি চিনতেন না। তিনি আরও বলেন, রহমত আলী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রহমত আলীর বড় ভাই মরম মিয়া জানান, তাঁর ভাই সাজ্জাদ মোর্শেদ সোহানের নিমন্ত্রণে ফরিদপুরে গিয়েছিলেন। কীভাবে মৃত্যু হয়েছে তা তিনি জানেন না। তিনি লাশ গ্রামে নিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।
পুলিশ রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে রহমত আলীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকদেব রায় বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




