শুক্রবার দিবাগত রাতে উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন মিত্রদেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েতের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অন্যদিকে, বাহরাইনে মার্কিন ড্রোন মজুতাগার এবং একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্র ধ্বংসের দাবি করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এই হামলার জবাবে কুয়েতের সামরিক বাহিনী পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে বলে তেহরান দাবি করেছে।

এর আগে টানা সপ্তম রাতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজগান প্রদেশে হামলায় তিনজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছে। সেখানে দুটি সেতু ও একটি সড়ক টানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে শুক্রবার দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর খামিরের সেতুতে হামলায় সাতজন নিহত হয়। ইরানশাহর প্রদেশের একটি বিমানবন্দরেও হামলা হয়েছে। সিরিয়া, ওমান ও কুয়েতে মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।

হরমুজ প্রণালিতে একটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার মার্কিন মেরিনরা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। অন্যদিকে, আইআরজিসি দাবি করেছে, মাইন বিছানো পথে দুটি ট্যাংকারে বিস্ফোরণে আগুন লেগেছে। তবে মার্কিন সেনাবাহিনী এই তথ্য অস্বীকার করেছে। ইয়েমেন উপকূলে সশস্ত্র ব্যক্তিরা আরেকটি জাহাজ আটক করেছে, যা বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে ঝুঁকি বাড়িয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানি করা হবে না।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করে বলেন, 'যদি মার্কিন হামলা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকে, তাহলে আমরা পূর্ণাঙ্গ আক্রমণাত্মক অভিযানের পর্যায়ে প্রবেশ করব।' যুদ্ধ বন্ধের জন্য সই হওয়া সমঝোতা ভেঙে গত সপ্তাহ থেকে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। দুই পক্ষই সর্বাত্মক যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।