কাতারের প্রাক্তন আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রকৃত উত্তরাধিকার ছিল বিকল্প পথের সুযোগ সৃষ্টি করা। তিনি কাতারের প্রচুর গ্যাস মজুদকে কাজে লাগিয়ে এমন এক জটিল নির্ভরশীলতার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন যা একটি ছোট রাষ্ট্র হিসেবে কাতারকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা প্রায় অসম্ভব করে তোলে। তার কৌশল ছিল বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বহুমাত্রিক সম্পর্ক গড়ে তোলা, যাতে একটি পথ বন্ধ হয়ে গেলেও অন্য পথ খোলা থাকে। তবে এখন প্রশ্ন উঠেছে, তার উত্তরসূরিরা কি সেই বিকল্প পথগুলোর কার্যকারিতা ধরে রাখতে পারবেন যখন একসঙ্গে একাধিক ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি হবে। কাতারের গ্যাস রপ্তানি, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই কাঠামো বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কতটা টেকসই, সেটাই এখন দেখার বিষয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওঠানামার মধ্যে কাতারকে তার অবস্থান ধরে রাখতে হবে। শেখ হামাদ যে ভিত্তি তৈরি করে গেছেন, তা তার উত্তরসূরিদের জন্য একইসঙ্গে শক্তি ও দুর্বলতা উভয়ই হতে পারে।