জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ক্ষমতার অহংকারে কেউ যেন পথ হারিয়ে না ফেলে। রাজনীতির চিরন্তন সত্য হলো, আজকের সরকারি দল কিংবা বিরোধী দলের অবস্থান কখনোই স্থায়ী নয়; যেকোনো মুহূর্তে এই চিত্র বদলে যেতে পারে। এমনও সম্ভাবনা রয়েছে যে, বর্তমানে যারা ক্ষমতায় বা বিরোধী বেঞ্চে আসীন, আগামী দিনে তারা সংসদে প্রবেশের সুযোগটুকুও হারাতে পারে। যারা অপকর্মের কারণে সরকার থেকে বিদায় নিয়েছে, তাদের বিরোধী দল হিসেবে এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজধানীর ইস্কাটনে অবস্থিত শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে রোববার বিকেলে 'জুলাই গণ–অভ্যুত্থান—ন্যায়বিচার, মেধার মূল্যায়ন ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ' শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন জামায়াতের শীর্ষ এই নেতা। ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির আরও বলেন, গুরুতর অপরাধের দায় এড়াতে অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, কিন্তু তারা এখন সুযোগ খুঁজছে ফিরে আসার। তিনি উল্লেখ করেন, যারা পালিয়ে গেছে তারা মাঝে মাঝেই আভাস দিচ্ছে যে তারা ফিরে আসছে, তবে যারা প্রতিদিন আত্মহত্যার হুমকি দেয়, তারা বাস্তবে তা করে না—এ কথা বলতে গিয়ে তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথাই তুলে ধরেন। শফিকুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, এত সাহস থাকলে তিনি কেন দেশ ছেড়ে পালালেন? তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যেভাবে বলছেন তাকে জোর করে মস্কো নিয়ে যাওয়া হয়েছে বা তিনি গোপালগঞ্জ যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এখন সব সত্য বেরিয়ে আসছে।

পাশাপাশি, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতের সমালোচনাও করেন বিরোধীদলীয় এই নেতা। তিনি বলেন, পাশের দেশটি নিজেদের বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বন্ধু দাবি করে, কিন্তু বন্ধুর পরিচয় দিয়ে তারা সবচেয়ে বড় খুনিকে আশ্রয় দিয়েছে। শুধু আশ্রয়ই নয়, কূটনৈতিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করে তাকে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখার সুযোগও দিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরার আগে ও পরে মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের যে অঙ্গীকার করেছিলেন, তার বাস্তবায়ন চোখে পড়ছে না বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি সবক্ষেত্রে দলীয়করণ বন্ধের জোর দাবি জানান। ফ্যাসিবাদকে 'ভাইরাস' আখ্যা দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এই ভাইরাস যাকে সংক্রমিত করে, তাকে ফ্যাসিবাদী বানিয়ে ছাড়ে। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, আগের সরকার যেসব অপকর্মের কারণে ফ্যাসিবাদী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, আজকে কেউ যদি একই ধরনের কাজ করে, তাহলে তারাও নিঃসন্দেহে ফ্যাসিবাদী। একজন অপরাধীকে অপরাধের মাপকাঠিতে বিচার করা উচিত, সম্পর্কের ভিত্তিতে নয় বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং জামায়াত ও এনডিএফের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।