জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষিত শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত ভাস্কর্যে মানুষের মুখাবয়ব না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। রোববার জাদুঘরটি পরিদর্শন শেষে তিনি এই মত প্রকাশ করেন বলে দলটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনাকে তার মূল চেতনা ও প্রেক্ষাপটসহ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের সময়ে সংগঠিত ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তার দলের অবস্থান ছিল স্পষ্ট—রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় মুসলিম সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের পরিপন্থী মানুষের ভাস্কর্য থাকা উচিত নয়। সেই ধারা থেকে শাপলা চত্বরের শহীদদের মুখাবয়ব বাদ দিয়ে ঘটনার স্মৃতি ও চিত্র অন্যভাবে ফুটিয়ে তোলার সুপারিশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এই জাদুঘরটি দেশের সর্বস্তরের মানুষের পাশাপাশি রাষ্ট্রের শাসকদের জন্যও একটি শিক্ষামূলক পাঠশালা হিসেবে কাজ করবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলের নৃশংসতার যে নিদর্শন এখানে রাখা হয়েছে, তা যেকোনো বিবেকবান মানুষকে আবেগপ্রবণ করবে।
জাদুঘরের সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বহু মূল্যবান স্মৃতিচিহ্ন ও সরঞ্জাম অত্যন্ত সাধারণভাবে এবং মানুষের নাগালের মধ্যে প্রদর্শিত হচ্ছে। একদিকে এসব জনসাধারণকে দেখানোর প্রয়োজন, অন্যদিকে যথাযথ সংরক্ষণও জরুরি। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন মামুনুল হক। ইতিহাসকে নিজস্ব নিয়মে প্রবাহিত হতে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, ইতিহাস বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্নভাবে ধরা দেবে। তবে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের প্রভাব না মেনে সত্য ও বাস্তবতার নিরিখেই ইতিহাস সংরক্ষণ করা উচিত।
জাদুঘরে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জুলাই ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের তাদের ভূমিকার ভিত্তিতে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে যথেষ্ট বৈষম্য হয়েছে বলেও তিনি মনে করেন। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে এটি কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মত প্রকাশ করে তিনি আশা করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে নজর দেবেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফেলানী হত্যার ঘটনার স্মৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের ছবির মতো ফ্যাসিবাদী নির্যাতনের বাস্তব চিত্র আর নেই। এই একটি দৃশ্যই গোটা দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে। জাদুঘরে এটি স্থান না পাওয়া মোটেই কাম্য নয়। এটি অপসারণের কারণে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
জাদুঘর পরিদর্শনের সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলটির নায়েবে আমির মাহবুবুল হক, মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন ও তোফাজ্জল হুসাইন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সল আহমাদ ও আবুল হাসানাত জালালী, প্রশিক্ষণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, বায়তুল মাল সম্পাদক ফজলুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মুর্শিদ সিদ্দিকী।




