মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল গার্ডের সেনারা সম্প্রতি একটি নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করেছেন যা আকাশে পাখি ও ড্রোনের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে সক্ষম। বিশেষ করে যেসব সেনা জৈবিক ও রাসায়নিক হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে থাকেন, তাদেরকে এই অত্যাধুনিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থা ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত সেন্সরগুলোতে এমন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজিত আছে, যা মানবহীন বিমানব্যবস্থা অর্থাৎ ড্রোন শনাক্তে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আকাশসীমার হুমকি দ্রুত শনাক্ত করতে এ ধরনের প্রযুক্তির বিকল্প নেই। ছোট আকারের ড্রোন প্রায়ই পাখির সাথে মিলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, কিন্তু এই সিস্টেম অতি দ্রুত বৈশিষ্ট্যগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিখুঁত ফলাফল দিতে সক্ষম। প্রাকৃতিক পরিবেশে পাখির উপস্থিতিতে অনেক সময় আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী ড্রোন চিহ্নিত করা কঠিন হয়, কিন্তু আধুনিক রিকগনিশন প্রযুক্তি সংবলিত সেন্সরগুলোর মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়াও, এই প্রযুক্তি শুধু নজরদারি বা সামরিক নিরাপণর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং রাসায়নিক বা জৈবিক আক্রমণের মতো সংকটকালীন মুহূর্তে দ্রুত মূল্যায়ন করতেও এটি বিশেষ সহায়ক হবে। আকাশে সন্দেহজনক কোনো কিছু উড়তে দেখলে আগেকার দিনে মানুষের ওপরই নির্ভর করতে হতো, কিন্তু এই স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া ভুলের সম্ভাবনা অনেকখানি কমিয়ে আনে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জরুরি প্রতিক্রিয়ার কাজে নিয়োজিত সদস্যরা ইতিমধ্যে এই সেন্সর ব্যবহারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। প্রশিক্ষণে সেন্সর প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও তার বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমেবে সেনা সদস্যরা আকাশসীমায় যে কোনও অনাহুত বিমানের উপস্থিতি আগেভাগেই জেনে নিতে পারবেন, যা জৈবিক বা রাসায়নিক হামলার পরবর্তী জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।