যৌন অপরাধী অর্থদাতা জেফরি এপস্টাইন কীভাবে তার 'সহায়ক' নামে পরিচিত নারীদের ফাঁদে ফেলে তাদের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতেন, তার এক বিরল ও ভয়াল চিত্র ফুটে উঠেছে একটি সাক্ষাৎকারে। 'আনিয়া' ছদ্মনামে পরিচিত এক নারী বিবিসিকে জানিয়েছেন, এপস্টাইনের 'কাল্ট'-এর ভেতরে তার জীবন ছিল নিরন্তর ভীতি, হুমকি এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের এক নরক। তিনি বর্ণনা করেছেন কীভাবে এপস্টাইন তাকে এবং অন্যদের বিচ্ছিন্ন করে, তাদের ইচ্ছাশক্তিকে ভেঙে দিয়ে নিজের অধীনস্থ করে তুলতেন। শুধু মানসিক নয়, শারীরিকভাবেও তাদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালানো হতো। আনিয়ার দাবি, এপস্টাইন তার 'সহায়কদের' ওপর চালাতেন বিকৃতকারী অস্ত্রোপচার, যা তাদের শরীরকে তার ইচ্ছেমতো বদলে দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। এই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি তাদের আরও নির্ভরশীল ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য করে তুলতে চেয়েছিলেন। হুমকি ও ভয় দেখিয়ে তিনি তাদের মুখ বন্ধ রাখতেন, যাতে কেউ বাইরে গিয়ে কিছু বলতে না পারে। আনিয়ার মতে, এপস্টাইনের এই ব্যবস্থা ছিল একটি সম্পূর্ণ 'কাল্ট' সংস্কৃতির মতো, যেখানে সদস্যরা তার প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত থাকতে বাধ্য হতো। এই সাক্ষাৎকারটি এপস্টাইনের অপরাধজগতের আরেকটি অন্ধকার দিক উন্মোচন করেছে, যা এখন পর্যন্ত অজানা ছিল। ভুক্তভোগীর এই বক্তব্য এপস্টাইনের শিকার হওয়া অগণিত নারীর দুঃসহ স্মৃতির প্রতিধ্বনি বহন করে।