আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসের একটি নামী সুশি রেস্তোরাঁর সামনে কাচের বাক্সে রাখা ছিল ‘ফেদে’ ও ‘মাগুই’ নামের দুটি গোল্ডফিশ। রোদ ও শোরগোলের মধ্যে ছোট জায়গায় আটকে থাকা মাছ দুটির প্রতি কারও নজর ছিল না। তবে একদিন এক পথচারীর চোখে পড়ে মাছগুলোর অস্বাভাবিক অবস্থা। এই ঘটনাই বদলে দেয় তাদের ভাগ্য। ‘জাউলাস ভাসিয়াস’ নামের একটি প্রাণী অধিকার সংগঠনের আইনজীবী মাতিয়াস ত্রুফেরো বলেন, যে কেউ একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারতেন যে জায়গাটি মাছগুলোর জন্য উপযুক্ত ছিল না। সংগঠনটির কাছে বর্তমানে দুই শতাধিক উদ্ধার করা প্রাণী রয়েছে। মাছগুলোর কষ্ট দেখেই তারা আদালতে অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের যুক্তি ছিল, এভাবে ছোট জায়গায় রেখে মাছগুলোকে কষ্ট দেওয়া আর্জেন্টিনার পশু নির্যাতনবিরোধী আইনের লঙ্ঘন। বিজ্ঞানীদের সহায়তায় জাউলাস ভাসিয়াস আদালতে মামলাটি পরিচালনা করে এবং দ্রুত মাছ দুটিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি পায়। আইনজীবী ত্রুফেরো জানান, রেস্তোরাঁর কর্মীরা আদালতের এই সিদ্ধান্তে কোনো বাধা দেননি। বিশেষজ্ঞ কার্লোস হোসে আগা মাছ দুটিকে উদ্ধারে সাহায্য করেন এবং পরবর্তীতে তাদের নিজের কাছে রাখার দায়িত্ব নেন। তিনি বলেন, ওই ছোট কাচের বাক্সে মাছ দুটিকে আটকে রাখা আর প্রচণ্ড গরম ঘরের ভেতর খাঁচায় দুটি মেরুভালুককে বন্দী করে রাখা একই কথা। ৪০ লিটারের ছোট বাক্স থেকে সরিয়ে মাগুই ও ফেদেকে কার্লোস হোসে আগার বাড়ির আড়াই হাজার লিটারের বড় ট্যাংকে রাখা হয়। আদালত রায় দেন যে মাছ দুটি এখন থেকে এই নতুন অভিভাবকের কাছেই থাকবে। আইনজীবী ত্রুফেরো বলেন, মামলার শুরুতেই তারা আদালতের কাছে অনুরোধ করেছিলেন, মাছ দুটিকে ভালো জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি এদের সংবেদনশীল সত্তা বা অনুভূতি থাকা প্রাণী হিসেবে ঘোষণা করতে। অর্থাৎ তারা চেয়েছিলেন, আইন যেন মাছগুলোকে জড় বস্তু হিসেবে না দেখে, বরং মানুষ বা অন্য পশুপাখির মতো তাদেরও কষ্ট পাওয়ার অনুভূতি ও বেঁচে থাকার অধিকার আছে বলে স্বীকৃতি দেয়। এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে অন্য কোনো প্রাণীকে এভাবে ছোট জায়গায় কষ্ট দেওয়া হলে, এ রায়কে উদাহরণ হিসেবে দেখিয়ে তাদেরও উদ্ধার করা যাবে। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, বাড়িতে গোল্ডফিশ রাখা কি তাহলে বেআইনি? আইনজীবী জানান, বিষয়টি নির্ভর করে কীভাবে মাছগুলোকে রাখা হচ্ছে তার ওপর। আর্জেন্টিনার আইন অনুযায়ী, অ্যাকুয়ারিয়ামে মাছ রাখা সরাসরি অপরাধ নয়। তবে এদের যদি এমন পরিবেশে রাখা হয় যা কষ্টদায়ক, তাহলে তা অবশ্যই বেআইনি। খুব ছোট জায়গায় আটকে রাখা, ঠিকমতো খাবার না দেওয়া কিংবা এদের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ আইনত অপরাধ। এ ছাড়া মাছটি যদি কোনো বিদেশি বা বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি হয়, যা বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতাভুক্ত, তাহলে তাকে ঘরে রাখা নিষিদ্ধ হতে পারে। এ ধরনের নিয়ম বাংলাদেশসহ বিশ্বের আরও অনেক দেশেই বিদ্যমান। ২০০৫ সালে ব্রাজিলে সুইজা নামের এক শিম্পাঞ্জির মুক্তির আবেদনের মাধ্যমে প্রথম প্রাণীদের আইনি অধিকারের লড়াই শুরু হয়।
আর্জেন্টিনার আদালতের রায়: গোল্ডফিশ ‘অনুভূতিশীল প্রাণী’, উদ্ধার করে বড় ট্যাঙ্কে স্থানান্তর
বুয়েনস এইরেসের এক সুশি রেস্তোরাঁ থেকে উদ্ধার করা ‘ফেদে’ ও ‘মাগুই’ নামের দুটি গোল্ডফিশকে জীবন্ত ও অনুভূতিশীল প্রাণী হিসেবে স্বীকৃতি দিল আদালত। এ রায়ের ফলে প্রাণীদের আইনি অধিকারের নতুন নজির তৈরি হলো।



