ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাস্থ আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুনরায় তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই)। নিহত চিকিৎসক অভয়ার (ছদ্মনাম) পরিবার ও রাজনৈতিক মহলের ক্রমাগত চাপের মুখে এই পুরনো আলোচিত মামলায় নতুন করে তদন্তকারী দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে কলকাতার শিয়ালদহের আদালতে নতুন তদন্ত কর্মকর্তার নাম পাঠানো হয়। আগের তদন্ত কর্মকর্তা সীমা পাহুজাকে সরিয়ে দায়িত্বে আনা হয়েছে সিবিআইয়ের আরেক কর্মকর্তা সন্দীপনী গর্গকে। একক নয়, সম্পূর্ণ একটি নতুন দল তৈরি করা হয়েছে এই সংবেদনশীল মামিয়ার জন্য। এই তদন্ত দলে সন্দীপনী গর্গের পাশাপাশি আরও দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে যুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন সংস্থাটির যুগ্ম পরিচালক অনুরাগ কুমার ও মনীষ উপাধ্যায়। এই তদন্তকারী দলটি এত দিনের জমানো হাজারো পাতার নথিপত্র শুরু থেকে আবার পর্যালোচনা করবে।
আগের তদন্ত কর্মকর্তার প্রতি ক্ষোভ ও অভিযোগ জমা ছিল অনেক দিন ধরেই। এ মামিরায় নিহত চিকিৎসকোর আইনজীবী অমর্ত্য দে আদালতে অভিযোগ করেন, পানিহাটির সাবেক তৃণমূল বিধায়ক নির্মম ঘোষের মামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বারবার আদালাতের নজর আকর্ষণ করা সত্ত্বেও তদন্তকারী কর্তকর্তা বিষয়টিকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করে গেছেন।
তদন্ত দল পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় নিহত নারী চিকিৎসকোর মা ও বিজেপির নির্বাচিত বিধায়ক রত্না দেবনাথ স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “এবার আমার কন্যার ধর্ষণ ও হত্যার ন্যায়বিচারের আশা সঞ্চার হলো।” প্রসঙ্গত, এর আগে সাবেক তদন্তকারী সীমা পাহুজার বিরুদ্ধে সঠিক ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত না-করার অভিযোগ তুলে আদালতের কাছে আপীল করেছিলেন রত্না দেবনাথ।
শুধু পরিবারই নয়, এই মামির তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ এনে গত মে মাসে সীমা পাহুজাকে সরাসরি অভিযোগী হিসেবেই তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছিলেন কলকাতার সাবেক বিচারপতি ও বর্তমান বিজেপির লোকসভা সদস্য অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট দিবাগত রাতের কলকাতার ওই সরকারি হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় ৩১ বছর বয়সী ওই চিকিৎসকোকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। পরের দিন হাসপাতালের সেমিনার কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলটি ঘিরে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্তের দাবি জোরালোভাবে উঠলেও, পরদিন ১০ আগস্ট উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পানিহাটি শ্মশানঘাটে তড়িঘড়ি করে দেহ সৎকার করে ফেলা হয়। এই আচমকা দাহকার্যের পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবে ভূমিকা থাকার অভিযোগ ওঠে।
এই হত্যাকাণ্ড শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সমগ্র ভারতে চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির মধ্যে তীব্র আন্দোলন সৃষ্টি করে। হত্যাকাণ্ডের পরদিনই সঞ্জয় রায় নামের হাসপাতালের সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি শিয়ালদহের আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছেন। তবে আদালতের ওই রায় মেনে নিতে পারেননি নিহতের মা রত্না দেবনাথ ও পিতা শেখর রঞ্জন দেবনাথ। ঘটনার পর রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠা রত্না দেবনাথ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি আসন থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন এবং পরবর্তীতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামির পুনর্নতদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।




