এক মার্কিন ন্যাশনাল গার্ড কর্মকর্তা তার দ্বৈত জীবনধারণের জন্য সরকারি ভ্রমণ কার্ড ও জাল নথিপত্রের অপব্যবহার করেছিলেন বলে প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন। ৪০ বছর বয়সী মেজর কলিন ওয়েল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতে প্রায় ৫৪,০০০ ডলার আত্মসাতের অভিযোগ এবং এক মঙ্গোলীয় নারী ও তার মেয়েকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করতে প্ররোচিত করার অভিযোগ স্বীকার করে দোষ স্বীকার করেছেন। তার সাজা এখনও ঘোষণা বাকি।

প্রসিকিউটরদের সাথে দরকষাকষিতে সই করা এক বিবৃতিতে ওয়েল স্বীকার করেন যে, তার প্রথম বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে — এমন ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করতে তিনি একটি ভুয়া ডিভোর্স ডিক্রি তৈরি করেছিলেন। ওই নারীকে যুক্তরাষ্ট্রে এনে তিনি আরও কিছু সরকারি রেকর্ড জাল করে তাকে বোঝান যে, তার নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং তিনি আইনত এখানে অবস্থান করছেন।
ওয়েলের আইনজীবী গ্রেগরি রোজেন এক বিবৃতিতে বলেন, আফগানিস্তান ও জিবুতিতে দুটি মোতায়েন এবং পরিবার থেকে দীর্ঘ দিন দূরে থাকা ওয়েলের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছিল। তিনি মন্তব্য করেন, “তবে এ সবকিছুই মেজর ওয়েল তার কাজের সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করছেন। অপরাধের বিবরণের চেয়ে এই দায়বদ্ধতাই তার চরিত্র সম্পর্কে বেশি কিছু বলে।”
পরকীয়ার সূত্রপাত ২০১৯ সালে, যখন ওয়েল আলাস্কা ন্যাশনাল গার্ডের কর্মী হিসেবে মঙ্গোলিয়ার উলানবাটোরে মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন। ২০২১ সালে আলাস্কায় ফেরার পর এবং পরের বছর আরকানসায় চলে যাওয়ার পরও এ সম্পর্ক বজায় ছিল। তাদের বিয়ে হয় ২০২২ সালে মঙ্গোলিয়ায়।
২০২৩ সালে ওয়েল তার পরিবার নিয়ে ওয়াশিংটনে চলে আসেন ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ন্যাশনাল গার্ডের একটি চাকরির জন্য, যেখানে ছিল বিদেশে ব্যাপক ভ্রমণের প্রয়োজন। দ্বিতীয় স্ত্রী যাতে না বুঝতে পারেন তিনি পরিবারের সাথেই বসবাস করছেন, সেজন্য ভিডিও কলে কথা বলার উদ্দেশ্যে তিনি ওয়াশিংটন এলাকার হোটেল রুম ভাড়া করতে নিজের সরকারি ভ্রমণ কার্ড ব্যবহার করতেন। আদালতে দাখিলকৃত বিবরণী অনুযায়ী, তিনি ভুয়া ভ্রমণ খরচ জমা দিতেন এবং মঙ্গোলীয় ওই নারীর সাথে দেখা করতে বিদেশ ভ্রমণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে মিথ্যা তথ্য প্রদান করতেন।
ওয়েল সরকারের কাছ থেকে ওই নারী ও তার মেয়ের যুক্তরাষ্ট্রে আসার বিমান টিকিটের মূল্যও আদায় করেছিলেন ২০২৪ সালে। এরপর তিনি ভার্জিনিয়ায় আবার ওই নারীকে বিয়ে করেন, যেখানে তিনি মিথ্যা বলে যে তিনি আগে কখনও বিবাহিত ছিলেন না। উত্তর ভার্জিনিয়ায় তাদের থাকার ব্যবস্থাও করেছিললেন তিনি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত গত বছরের শেষে ভাড়া পরিশোধে জাল চেক দেয়ায় তাদের উচ্ছেদ করা হয়।
সেই সময়কালে, ওয়েল জানতেন যে ওই নারী ও তার মেয়ের পর্যটন ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু এই বাস্তবতা গোপন করতে নানা নথি জাল করতেন। এর মধ্যে ছিল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের জাল চিঠি, সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড এবং প্রতিরক্ষা দফতরর জাল নথি যাতে বলা হয় অভিবাসীরা সামরিক স্বাস্থ্য বীমার আওতায় নথিভুক্ত হয়েছে।