গতকাল শুক্রবার ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি আংশিক কমিটি ঘোষিত হয়েছে। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদুল ইসলাম ও সদস্যসচিব মো. কামরুজ্জামানের যৌথ স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে এই ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে জাহাঙ্গীর আলমকে সভাপতি, মনোয়ার হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক এবং মাসুদ রানাকে সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী পনেরো দিনের মধ্যে তাঁদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে হবে।
এই কমিটি গঠনের পরপরই স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত দুজন নেতার বিরুদ্ধে পূর্বে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল এবং তাঁরা আদালতে সাজাও ভোগ করেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ১২ অক্টোবর উপজেলার পাটগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি দোকানে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে সেখানে ১৮২টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার হয়। একই সময়ে পাশে গাঁজা সেবনের সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মনোয়ার হোসেন, মাসুদ রানা এবং সালাউদ্দীন নামের আরেক ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করে। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তিনজনকে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করে কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁদের তিন দিন জেলে থাকতে হয়েছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই বছরের ১২ অক্টোবর প্রথম আলোতে ‘মাদক সেবনের দায়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ তিন যুবকের কারাদণ্ড’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা কমিটি ওই দুই নেতাকে সাময়িকভাবে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে। তবে দুই মাস পর তদন্তের ভিত্তিতে তাঁদের পুনরায় স্বপদে ফিরিয়ে আনা হয়।
উল্লেখ্য, সাধারণ সম্পাদক পদপ্রাপ্ত মনোয়ার হোসেন ২০২১ সালের কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি এ বিষয়ে দাবি করেন, তাঁরা কখনোই মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাঁর ভাষ্যমতে, দলীয় কার্যক্রম চলাকালীন ছাত্রলীগের কর্মীরা তাঁদের আটক করে মাদক সেবনের অভিযোগে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। যদিও আদালত সাজা প্রদান করেছিল, জেলা কমিটির তদন্তে পরবর্তীতে তাঁদের মাদকের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। ফলে দুই মাস পর তাঁদের পুনর্বহাল করা হয়। মনোয়ার হোসেন আরও বলেন, দল পরিচালনার সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে জেলা নেতৃত্ব তাঁদের প্রতি আস্থা রেখেছে।
অপরপক্ষে, সহসভাপতির দায়িত্বপ্রাপ্ত মাসুদ রানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়, কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় অনেক নেতা ও কর্মী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন। রানীশংকৈল পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি পলাশ চৌধুরী, যিনি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলেন, মন্তব্য করেন যে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নিয়েই এখন দল পরিচালিত হচ্ছে; এ বিষয়ে তাঁর আর কিছু বলার নেই। সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রত্যাশী হাসিম রেজা বলেন, যেখানে সংগঠন মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি ঘোষণা করেছে, সেখানে সাজাপ্রাপ্তদের কমিটিতে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাঁর মতে, এটি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
জানতে চাইলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, সুষ্ঠু দল পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নেতার প্রয়োজন ছিল। তেমন উপযুক্ত নেতা না পাওয়ায় তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, যদিও পূর্বে কিছু অভিযোগ ছিল, বর্তমানে সেগুলো আর বিদ্যমান নেই।




