হারাগাছ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে স্থানীয় বিএনপি। গত শুক্রবার রাতে হারাগাছ পৌর বিএনপির সভাপতি মোনায়েম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিনের যৌথ স্বাক্ষরিত নোটিশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, মোল্লাটারী জামে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমকে রাষ্ট্রীয় ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওয়ার্ড নেতার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে সংগঠনের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে, কেন তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না।
অভিযোগের বিস্তারিত অনুযায়ী, মসজিদের মুয়াজ্জিন নুর আমীন জানিয়েছেন, সরকারি অনুদানের আশ্বাস দিয়ে প্রথমে তাঁদের কাছে ৩৪ হাজার টাকা দাবি করা হয়। আলোচনার এক পর্যায়ে ৩০ হাজার টাকা প্রদান করলে নাম তালিকাভুক্ত হবে বলে জানানো হয়। পরবর্তীতে তিনজনের পক্ষ থেকে প্রথম কিস্তি হিসেবে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং বাকি অংশ পরবর্তী সময়ে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু এই লেনদেনের বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই টাকা ফেরত দেন। যদিও এর আগে তাঁদের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যা ঘটনার গুরুত্ব বাড়িয়ে তোলে।
অভিযুক্ত সাইদুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করে একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য, তিনি কারও কাছ থেকে কোনো অর্থ নেননি এবং এসব অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে। অপরদিকে, শনিবার দুপুরে নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন। তিনি ব্যাখ্যা দেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি ভাতা প্রদানের নামে কারও কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করা সম্পূর্ণ অপরাধমূলক। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো অডিও ও পরবর্তী তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্বে অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।




