৪৭তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মো. জাবেদ হোসেন তাঁর ভাইভা বোর্ডের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। প্রবেশের সময়ই চেয়ারম্যান তাঁকে সালাম দেন, যা লক্ষ না করায় তিনিও পাল্টা সালাম দিয়ে বসার অনুমতি নেন। ভাইভা বোর্ডে তাঁর প্রথম পছন্দ ছিল প্রশাসন, পুলিশ ও কাস্টমস ক্যাডার—এ কথা জানানোর পরপরই প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়।
এক্সটার্নাল সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি ডেপুটি কমিশনার, ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টরের দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে সম্পূরক প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে ডিসি সাহেব কত টাকা পর্যন্ত ইজারা দিতে পারেন—এই প্রশ্নের উত্তর না জানায় তিনি তা এড়িয়ে যান। ইউএনও সাহেব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কীভাবে বিচারকাজ চালান জানতে চাইলে তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেন। মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বছর সাজার বিধান রয়েছে বলেও তিনি জানান। বাল্যবিবাহে ছেলে ও মেয়ের বয়স এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে বাল্যবিবাহের বিধান সম্পর্কেও তিনি সঠিক উত্তর দিতে সক্ষম হন।
চেয়ারম্যানের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিআর থাকাকালে ক্লাস টেস্ট পেছানোর দাবিতে ক্লাসমেটরা একমত হলেও তিনি স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিউ টাইমে পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে ছিলেন, ফলে তাদের বিরোধিতার সম্মুখীন হন। তবে কমিউনিকেশন স্কিল ও লিডারশিপ কোয়ালিটির কারণেই তাকে সিআর বানানো হতো বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নেতা হিসেবে কাজের হ্যান্ডলিং পদ্ধতি, গ্রুপে কাজ করতে অনিচ্ছুক সদস্যদের অনুপ্রাণিত করার কৌশল এবং থিসিস চলাকালীন একজন সদস্য ডিউ টাইমে কাজ শেষ করতে না পারায় স্যারের সঙ্গে আলোচনা করে ডিফেন্স সময় বাড়িয়ে নেওয়ার ঘটনাও তিনি বর্ণনা করেন।
ভাষা শেখার আগ্রহ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ইংরেজি ছাড়া অন্য ভাষা শেখা হয়নি; দেশে থেকেই ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছা থাকায় অন্য ভাষা শেখা হয়ে ওঠেনি। শখের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি গাছের গ্রাফটিং করার কথা বলেন, যা তার সাবজেক্টিভ বিষয় মনে হওয়ায় তিনি সেটি সংশোধন করে ব্যাখ্যা দেন।
দ্বিতীয় এক্সটার্নাল প্রশ্ন করেন সুনামগঞ্জের পাথর সমস্যা নিয়ে। জবাবে তিনি বলেন, প্রথমে পাথরের পরিমাণ ও উত্তোলনের পরিবেশগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে ইজারাদারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সরকারিভাবে উত্তোলনের সীমা নির্ধারণ করবেন। নদীর ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নাব্যতা রক্ষার দিকেও নজর রাখবেন বলে জানান তিনি। প্রশাসনে কীভাবে একাডেমিক জ্ঞান কাজে লাগাবেন—এই ইংরেজি প্রশ্নের উত্তরে তিনি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প মূল্যায়ন ও মনিটরিংয়ে তা ব্যবহারের কথা বলেন। প্রশাসনের পাঁচটি সমস্যা জানতে চাইলে তিনি লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব, জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব এবং সবাইকে সমান সেবা দেওয়ার চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন। সমস্যা সমাধানের কৌশল হিসেবে তিনি পেপারলেস সিস্টেম, ই-ফাইলিং, প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার ওপর জোর দেন।
এসডব্লিউওটি বিশ্লেষণ করতে বলা হলে তিনি স্ট্রেংথ ও অপারচুনিটি উল্লেখ করার পর বোর্ড অন্য প্রসঙ্গে চলে যায়। বর্তমান কর্মস্থলের সমস্যা সম্পর্কে উত্তর দেওয়ার পর ভাইভা শেষ হয়। ১৫-১৬ মিনিটের এই ভাইভায় সবাইকে গড়ে ১২-১৩ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল। জাবেদ স্বীকার করেছেন, লেখায় যতটা সাবলীল মনে হচ্ছে, বাস্তবে ততটা সাবলীলভাবে বলতে পারেননি; হার্টবিট বেড়ে যাওয়ায় কথা বলার সময় কিছুটা জড়তা ছিল, তবে নার্ভ নিয়ন্ত্রণে রেখে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।




