চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার চুক্তি বাতিল বা পুনঃআলোচনার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সোমবার জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে বন্দর সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংগঠন এবং বাম রাজনৈতিক দলগুলো চুক্তিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, এই চুক্তির মাধ্যমে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকার চুক্তি সম্পাদনের এখতিয়ার রাখে না। তবে মন্ত্রী সংসদে সব ধরনের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, সরকারি সব আইন ও বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

নৌমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বন্দরের যে খালি জায়গা রয়েছে সেখানেই লালদিয়া টার্মিনাল নির্মিত হবে। এর ফলে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়বে, সৃষ্টি হবে বিপুল কর্মসংস্থানের ও আধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তরিত হবে। ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস এই প্রকল্পে ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করছে বলে তিনি সংসদকে জানান। চুক্তিটি বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে একটি সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) চুক্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

চুক্তি সম্পাদনের পুরো প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি (এসিইএ) ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর চুক্তিটির অনুমোদন দেয়। প্রধান উপদেষ্টা ১৬ নভেম্বর অনুমোদন দিলে ১৭ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক কনসেশন এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মেয়াদ ৩৩ বছর— যার মধ্যে তিন বছর নির্মাণকাল এবং ৩০ বছর পরিচালনাকাল। পরবর্তীতে আরও ১৫ বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও বিদ্যমান।

একই প্রসঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি বলেন, ২০২৯ সালের মধ্যে এই বন্দর চালু হলে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রায় ৮ হাজার ২০০ টিইইউ ধারণক্ষমতা সম্পন্ন মাদার ভেসেল ও এক লাখ ডেডওয়েট টনের পণ্যবাহী জাহাজ সরাসরি বন্দরে ভিড়তে পারবে। বর্তমান চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় চার গুণ বেশি সক্ষমতা সম্পন্ন এসব জাহাজের আগমন দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে আমূল পরিবর্তন আনবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।