চিকিৎসাবিজ্ঞানের কাছে এইচআইভি ভাইরাস দীর্ঘদিন ধরেই একটি জটিল চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত। মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে এই ভাইরাস দীর্ঘ সময় নিজেকে গোপন রাখতে সক্ষম। এ কারণে গবেষকরা ক্রমাগত ভাইরাসটির বিস্তার ও বংশবৃদ্ধির প্রক্রিয়া বোঝার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তারা এইচআইভি-১ ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি থামিয়ে দিতে পারে এমন একটি নতুন ওষুধ তৈরি করেছেন। 'ভিএইচ ৪৯৯' নামের এই ট্যাবলেটটি প্রথম মানব পরীক্ষায় সফলতা অর্জন করেছে। ওষুধটি মানবদেহের মধ্যে থাকা এইচআইভি ভাইরাসকে ঘিরে রাখা ক্যাপসিড প্রোটিনকে লক্ষ্য করে কাজ করে। এই প্রোটিন ভাইরাসের টিকে থাকা ও ছড়িয়ে পড়ার জন্য অপরিহার্য। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ভিএইচ-৪৯৯ এই প্রোটিনের কার্যক্রম ব্যাহত করে ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি রোধ করে। সাম্প্রতিককালে ২৩ জন এইচআইভি-১ আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর ওপর ওষুধটির ফেজ-২এ ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। এই পরীক্ষায় ২০ জন রোগীকে ভিএইচ-৪৯৯ ওষুধের বিভিন্ন মাত্রা দেওয়া হয়, বাকি ৩ জনকে দেওয়া হয় প্লাসিবো। চিকিৎসা শুরুর আগে সকল রোগীর রক্তে এইচআইভি ভাইরাসের পরিমাণ উচ্চ ছিল। তবে মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই প্রত্যেক রোগীর রক্তের ভাইরাল লোড উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। উচ্চমাত্রার ডোজ গ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে ভাইরাসের মাত্রা সবচেয়ে বেশি কমেছে। প্লাসিবো নেওয়া রোগীদের অবস্থায় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ক্লিনিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেস সাময়িকীতে এই গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, ভিএইচ-৪৯৯ ওষুধটি শরীরে বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করেনি, ফলে এটি সহজেই সহ্য করা যায়। এই ওষুধের প্রতি আগ্রহের আরেকটি বড় কারণ হলো সিওয়াইপি৩এ৪ এনজাইমের সঙ্গে এর প্রতিক্রিয়া খুবই কম। এই এনজাইম মানবদেহে বিভিন্ন ওষুধ প্রক্রিয়াজাত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একাধিক ওষুধ একসঙ্গে সেবন করলে প্রায়ই জটিলতা দেখা দেয়। নতুন এই ওষুধ সেই ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে লেনাকাপ্যাভির নামের আরেকটি ক্যাপসিড প্রতিরোধক ওষুধের সঙ্গে ভিএইচ-৪৯৯-এর তুলনা করা হচ্ছে। লেনাকাপ্যাভির ইনজেকশন ছয় মাস পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে। তবে অন্যান্য ওষুধের সাথে এর কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন এমন রোগীদের জন্য ভিএইচ-৪৯৯ একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। প্রথম ধাপে উল্লেখযোগ্য সাফল্য মিললেও ব্যাপক ব্যবহারের আগে আরও অনেক পথ অতিক্রম করতে হবে। সাধারণ রোগীদের কাছে পৌঁছানোর আগে বড় পরিসরে ফেজ ৩ ট্রায়াল সম্পন্ন করা প্রয়োজন। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদী এইচআইভি চিকিৎসার সম্ভাবনা বাড়াতে এই ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশ্বব্যাপী এইচআইভি সংক্রমণ কমানোর প্রচেষ্টায় এই ট্যাবলেট নতুন দিশা দেখাতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি।