ম্যাকডোনাল্ডসের শেয়ার মূল্যে বড় ধস সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের ত্রৈমাসিক আয়ের প্রতিবেদনে বিনিয়োগকারীদের চমকে দিয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেখা গেছে, বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকে অতিক্রম করে গেছে ফাস্ট ফুড চেইনটির মুনাফা। বর্তমানে কোম্পানিটির বাজার মূলধন হ্রাস পেয়ে প্রায় ১৯১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা চলতি বছরে শেয়ার মূল্যের ১১ শতাংশেরও বেশি পতনের ইঙ্গিত দেয়।

প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক বিক্রয়কৃত আয়ের পরিসংখ্যান প্রত্যাশাকে হার মানালেও, শেয়ার বাজারে দীর্ঘমেয়াদী নিম্নমুখী প্রবণতা একটি উদ্বেগের বিষয়। বাজার বিশ্লেষকদের অনুমান, বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ম্যাকডোনাল্ডসের স্টকের যে ক্রমাগত অবমূল্যায়ন ঘটেছে, তা মূলত ভোক্তা ব্যয় সংকোচনের শঙ্কা এবং বর্ধিত প্রতিযোগিতার কারণে। এর মধ্যেই ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ নিল বার্গার জায়ান্ট।

বিবৃতিতে জানানো হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার পরিচালনার জন্য একজন নতুন প্রধান নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হবে দ্রুত ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ। প্রতিষ্ঠানটির সদর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, এই নতুন নেতৃত্ব আমেরিকার ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী মেন্যু ও পরিষেবা দ্রুত সমন্বিত করবেন এবং স্থানীয় বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করবেন।

ম্যাকডের্নাল্ডসের বৈশ্বিক ব্যবস্থাপনাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত মজবুত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রয় বৃদ্ধির হার মন্থর হয়ে পড়েছিল। সেই নিরিখে এই নতুন কর্তৃক নির্ধারণ ও নিয়োগকে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পুনরুজ্জীবনের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, মূল্যস্ফীতি কারণে খাদ্য মূল্যবৃদ্ধির দাপটে ফাস্ট ফুড সেক্টরে প্রতিযোগিতা তীব্রতর হচ্ছে। গত কয়েক মাস ধরে ভ্যালু মিল ও ডিজিটাল অর্ডারিংয়ের ওপর জোর দেওয়া সত্বেও শেয়ারের পতন রোখা যায়নি।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাারা মনে করছেন, নতুন প্রধানের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের অপারেশন ও ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের দায়িত্ব দেওয়ার ফলে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের গতিপথ সুগম হবে। যদিও বাজারে বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ এখনও সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন, তবে এই ত্রৈমাসিকের ইতিবাচক আয় তাদের আস্থা কিছুটা পুনরুদ্ধার করতে পারে।