যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফাইজার চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্নেষকদের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে যাওয়া আর্থিক ফলাফল ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি পুরো বছরের জন্য তাদের সার্বিক আয়ের পূর্বাভাসের নিম্নসীমা কিছুটা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে, যার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে রক্ত পাতলাকারী ওষুধ এলিকুইস ও অন্যান্য থেরাপির জোরালো বিক্রি।

অন্যদিকে, মহামারি-পরবর্তী সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তাদের করোনা সংক্রান্ত পণ্য থেকে প্রত্যাশিত আয়ের পরিমান কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফাইজার জানায়, পূর্বে তারা চলতি বছর শেষে করোনা পণ্য থেকে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, তা সংশোধন করা হয়েছে। এখন কোম্পানিটি এই খাত থেকে পুরো বছরে মোট ৪০০ কোটি ডলার আয়ের সম্ভাবনা দেখছে।

প্রতিষ্ঠানটির এই ইতিবাচক ত্রৈমাসিক ফলাফল এবং সংশোধিত ভবিষ্যত পরিকল্পনা বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। করোনা ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা পণ্যের ওপর আগের তীব্র নির্ভরতা কমিয়ে এনে ফাইজার তাদের মূল ওষুধ ব্যবসায়ের দিকে কৌশলগতভাবে জোর দেওয়ার যে প্রচেষ্টা চলছে, এই আর্থিক প্রতিবেদন তারই প্রতিফলন। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন, করোনা-উত্তর পরিস্থিতির সাথে নিজেদের কার্যক্রম খাপ খাইয়ে নেওয়ার এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির পথকে সুগম করছে।

বিশ্ববাজারে ফাইজারের শেয়ার দরের ওপর এ ঘোষণার ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। পর্যালোচকরা বলছেন, করোনা পণ্যের চাহিদা দ্রুত কমে যাওয়ার ফলে যে আঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছিল, ফাইজার তাদের নিয়মিত ওষুধের পাইপলাইন এবং বাজারজাতকরণের সক্ষমতা দিয়ে সেটি সামলে ওঠার পথে এগিয়ে চলেছে।