জাপানের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি প্রস্তুতকারক টয়োটা মোটর কর্পোরেশন মঙ্গলবার চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ওই সময়ে তাদের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১.৪৮ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৯.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। গত অর্থবছরের একই প্রান্তিকে এই মুনাফা ছিল ৮৪১ বিলিয়ন ইয়েন। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে মুনাফা প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বছরের তুলনায় প্রান্তিকিক বিক্রয় ১০ শতাংশ বেড়ে ১৩.৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৮৫ বিলিয়ন ডলার) হয়েছে।

মুনাফার এই উল্লম্ফনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের দরপতন। জাপানের বড় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি দুর্বল ইয়েন বিদেশি আয়ের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে যেখানে ১ ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল প্রায় ১৪৫ ইয়েন, সেখানে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬০ ইয়েনে। যদিও গত সপ্তাহে যৌথ মার্কিন-জাপানি বাজার হস্তক্ষেপের পর বর্তমানে ডলারের দর কিছুটা কমে প্রায় ১৫৮ ইয়েনে স্থিতিশীল রয়েছে। এই অনুকূল বিনিময় হার এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে টয়োটার পরিচালন মুনাফায় অতিরিক্ত ৩৪৫ বিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলার) যোগ করেছে। পুরো অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি ১ ডলার সমান ১৬০ ইয়েন ধরে হিসাব করছে।

তবে বিক্রির দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে টয়োটা। কোম্পানির প্রধান কর্মকর্তা তাকানোরি আজুমা জানিয়েছেন, শেষ হওয়া প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী টয়োটা ২৩ লাখ ৯০ হাজার যানবাহন বিক্রি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের ২৪ লাখ ১০ হাজারের তুলনায় কিছুটা কম। তবে পুরো অর্থবছরের জন্য কোম্পানির লক্ষ্যমাত্রা ৯৭ লাখ যানবাহন, যা আগের অর্থবছরের ৯৫ লাখ ৯৫ হাজার থেকে বেশি। আজুমা জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে টয়োটার হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা শক্তিশালী রয়েছে। বিশেষ করে ক্যামরি মিড-সাইজ সেডান এবং আরএভি৪ কমপ্যাক্ট স্পোর্ট ইউটিলিটি ভেহিকেলের বিক্রি ভালো। টয়োটা ২০৩০ সাল পর্যন্ত হাইব্রিড এবং হাইব্রিড ব্যাটারির উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে খরচ কমানো সম্ভব হবে বলে আজুমা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি টয়োটার বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রিও জোরালো রয়েছে।

ভারতের বাজারে আরবান ক্রুজার ও ইনোভা হাইক্রস মডেলগুলো জনপ্রিয়তা পেয়েছে, অন্যদিকে ইয়ারিস মডেল থাইল্যান্ড ও ইউরোপে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা জাপানি গাড়ি নির্মাতাদের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে, কারণ তাদের জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। টয়োটা জানিয়েছে, তারা বিকল্প রুট খোঁজাসহ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছে। এছাড়া ২৮ জুলাই দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের কুমামোটোতে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পের কারণে টয়োটার কিউশু অঞ্চলের কারখানাগুলোর উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তবে সপ্তাহের শেষের দিকে পুনরায় চালু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আয়চি প্রিফেকচারের তাহারা প্ল্যান্টেও ভূমিকম্পের কারণে আংশিক উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সামনের গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে মাসের শেষ পর্যন্ত সেখানে উৎপাদন কম থাকবে।

২০২৭ সালের মার্চে শেষ হতে যাওয়া পুরো অর্থবছরের জন্য টয়োটা ৩.২৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন (২০.৬ বিলিয়ন ডলার) মুনাফার পূর্বাভাস দিয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৩.৮৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন (২৪ বিলিয়ন ডলার) থেকে কিছুটা কম। অন্যদিকে বার্ষিক বিক্রয় ৫৪ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৩৪২ বিলিয়ন ডলার) হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আগের বছরের ৫০.৭ ট্রিলিয়ন ইয়েন থেকে বেশি। আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পর টোকিও শেয়ারবাজারে টয়োটার শেয়ারের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।