ইউরোপের বুকে সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত লিচেনস্টাইন নামের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটি নানা কারণে বিশ্বে আলোচিত। মাত্র ১৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশটি বিশ্বের ষষ্ঠ ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে পরিচিত। জনসংখ্যা মাত্র ৪১ হাজার হলেও অর্থনৈতিক সূচকে দেশটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষে। মাথাপিছু আয় প্রায় ২ লাখ ১ হাজার ১১২ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় প্রায় ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
নিরাপত্তার দিক থেকেও লিচেনস্টাইনের অবস্থান অনন্য। দেশটির নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনী না থাকলেও এটি বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ দেশ হিসেবে বিবেচিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রধান দায়িত্ব পালন করে দেশটির পুলিশ বাহিনী। অপরাধের হার অত্যন্ত কম হওয়ায় এখানে প্রয়োজন হয়েছে মাত্র একটি কারাগারের। রাজধানী ফাডুৎসে অবস্থিত ওই কারাগারটির ধারণক্ষমতা মাত্র ২০ জন।
ওয়ার্ল্ড প্রিজন ব্রিফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে দেশটির ওই একমাত্র কারাগারে বন্দী ছিলেন মাত্র ১১ জন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তাঁদের সবাই ছিলেন বিদেশি নাগরিক। তবে লিচেনস্টাইনে সাজাপ্রাপ্ত সব বন্দীকে স্থানীয় এই কারাগারে রাখা হয় না। দুই দেশের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী, দুই বছরের বেশি মেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ডের কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
ভৌগোলিকভাবে দেশটির যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভিন্ন। লিচেনস্টাইনে কোনো বিমানবন্দর কিংবা সমুদ্রবন্দর নেই। বিদেশ ভ্রমণের জন্য নিকটতম বড় বিমানবন্দরটি সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অবস্থিত, যা দেশটির প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। ক্ষুদ্র আয়তন ও কম জনসংখ্যার মধ্যেই সীমিত পরিসরে পরিচালিত হলেও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে লিচেনস্টাইন বিশ্বের বুকে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রয়েছে।




