হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের সাবেক মরগ ব্যবস্থাপক সিড্রিক লজকে গত বছর দেহাংশ “খেলনার মতো” বিক্রি করার অভিযোগে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কর্তৃপক্ষের মতে, তিনি মস্তিষ্ক, চামড়া, হাত ও মুখমণ্ডলসহ মৃতদেহের অংশবিশেষ পেনসিলভানিয়াসহ বিভিন্ন স্থানের ক্রেতাদের কাছে পাঠানোর একটি ভয়ঙ্কর চক্রের কেন্দ্রে ছিলেন। তার স্ত্রী ডেনিস লজকে সহযোগিতার দায়ে এক বছরের কিছু বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়, আর লজের কাছ থেকে দেহাংশ কেনা আরও ছয় ব্যক্তি দোষ স্বীকার করে দণ্ডিত হয়েছেন বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।
এই অপরাধের ফলে দায়ের হওয়া শ্রেণিগত মামলার নিষ্পত্তিতে এখন হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল ৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার (৫৩ মিলিয়ন ডলার) পরিশোধে সম্মত হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক চিঠিতে মেডিক্যাল স্কুলের ডিন জর্জ কিউ. ড্যালি ও বার্নার্ড এস. চ্যাং এই ঘোষণা দেন। আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে দুইটি শ্রেণিগত নিষ্পত্তি তহবিল গঠন করা হবে, যা পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। ৪৭ জন স্বজনের দায়ের করা এই মামলাগুলো গবেষণা ও শিক্ষার উদ্দেশ্যে দান করা মৃতদেহের সম্ভাব্য অপব্যবহার ও কালোবাজারে বিক্রি সংক্রান্ত। হার্ভার্ড জানিয়েছে, ঠিক কোন দাতার দেহাংশ লজ চুরি করেছেন তা নির্দিষ্টভাবে নির্ণয় করা সম্ভব নয়, কারণ তার কার্যকলাপের ব্যাপকতা পুরোপুরি নির্ণয় করা যায়নি।
২০২৩ সালে লজের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি ফেডারেল তদন্তকারীদের তথ্য এবং দেহ দাহের রেকর্ড পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত দাতাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করে। নিষ্পত্তির আওতায় ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলে দেহ দানকারী ব্যক্তিদের স্বজন বা মনোনীত প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত হবেন। বৃহস্পতিবার এক মুখপাত্র প্রতিষ্ঠানটির চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, এ বিষয়ে তাদের কাছে নতুন করে যোগ করার মতো কোনো তথ্য নেই।
লজ স্বীকার করেছেন যে, দাহ করার আগে তিনি দেহাংশ সরিয়ে ফেলতেন। হার্ভার্ড বলেছে, তিনি প্রতিষ্ঠানের অজ্ঞাতে ও অনুমতি ছাড়া এসব করেছেন। দেহ গবেষণা বা শিক্ষামূলক ব্যবহারের পর সাধারণত পরিবারে ফেরত দেওয়া হয় অথবা দাহ করা হয়। একটি ঘটনায় লজ একজন ক্রেতাকে চামড়া সরবরাহ করেন, যা ট্যান করে চামড়ায় বাঁধাই করে বইয়ে বাঁধানো হয়—এই বাস্তবতা “অত্যন্ত ভয়াবহ” বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করেন সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি আলিসান মার্টিন। ডিনদের চিঠিতে লজের কর্মকাণ্ডকে “ঘৃণ্য, জঘন্য ও আমাদের চিকিৎসা সম্প্রদায়ের মূল্যবোধের প্রতি স্পষ্ট বিশ্বাসঘাতকতা” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তারা বলেন, এই কর্মকাণ্ড “আমাদের অ্যানাটমিক্যাল গিফট প্রোগ্রামে নিঃস্বার্থভাবে দেহ দানকারী পরোপকারী ব্যক্তিদের প্রতি যে শ্রদ্ধা আমরা পোষণ করি, তার প্রতিফলন নয়।” পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর শোক ও সহানুভূতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
অর্থ পরিশোধ ছাড়াও হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল পরিবারগুলোর জন্য লজের কর্মকাণ্ড নিন্দা করে ও অ্যানাটমিক্যাল গিফট প্রোগ্রামের উন্নয়নের সারসংক্ষেপ জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রদানে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি, দেহ দাতাদের সম্মানে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে একটি বার্ষিক আর্থিক সহায়তা বৃত্তি চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ২০২৩ সালে গঠিত বহিরাগত বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সুপারিশমালা ইতিমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এই প্রতিবেদনটি প্রথমে ফরচুন ডট কমে প্রকাশিত হয়েছিল।




