নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় চুরির অপবাদে এক যুবককে গাছে বেঁধে বেদম প্রহারের পর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়নের গামরুলী পুরানবাড়ি গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম ইমন মিয়া (২৫)। তিনি ওই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক চারটার দিকে গামরুলী পুরানবাড়ি গ্রামের পল্লিচিকিৎসক লিটন মিয়ার বাড়িতে সিঁধ কেটে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাড়ির মালিক। ঘটনাস্থল থেকে একজোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়। পরে লিটন ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী ইমনকে সন্দেহ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ইমনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরির অভিযোগ ছিল। এ কারণে তিনি কিছুদিন এলাকার বাইরে অবস্থান করছিলেন। তবে মাঝেমধ্যে গ্রামে এসে বিভিন্ন স্থানে চুরি করে চলে যেতেন বলে তাঁদের অভিযোগ। শনিবার সকালে লিটন মিয়া ও তাঁর সহযোগী সাদেক মিয়া ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি রেলস্টেশন এলাকায় ইমনকে দেখতে পান। সেখানে তাঁরা ইমনকে আটক করে চুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ইমন চুরির বিষয়টি অস্বীকার করায় তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি চুরির কথা স্বীকার করেন। পরে ইমনকে ধরে গামরুলী পুরানবাড়ি গ্রামে নিয়ে আসা হয়।

স্থানীয় লোকজনের বক্তব্য, এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি ইমনকে দক্ষিণপাড়া বায়তুল আমান জামে মসজিদের সামনের মাঠে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। একপর্যায়ে ইমন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে তাঁর লাশ ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সেখান থেকে চলে যান।

নিহতের বাবা নুরুল ইসলাম জানান, তাঁর ছেলেকে চুরির অপবাদ দিয়ে যারা পিটিয়ে হত্যা করেছে, তিনি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। লাশ দাফনের পর মামলা করবেন বলেও জানান তিনি। ইমনের সৎ মা পারভীন আক্তার বলেন, ইমনের বাবা সিলেটে কাজ করেন। তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চুরির অভিযোগ এনে ইমনকে ধরে এনে মারধর করে মেরে ফেলা হয়েছে। পরে তার লাশ একটি খাটের মধ্যে রেখে সবাই পালিয়ে গেছে। ইমন চুরি করলেও কেউ তাকে মেরে ফেলতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত লিটন মিয়া ও সাদেক মিয়ার মুঠোফোন নম্বরে কল করা হলে সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে তাঁরা এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।