সাইবার নিরাপত্তা খাতের পরিচিত প্রতিষ্ঠান সফোস তাদের সাম্প্রতিক ‘এআই সিকিউরিটি ২০২৬’ প্রতিবেদনে সতর্ক করে জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার সাইবার অপরাধের নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। রবিবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি এই তথ্য প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরাধীরা এখন কেবল এআই প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষামূলক কাজ করছে না; বরং সরাসরি সাইবার হামলায় এই প্রযুক্তির প্রয়োগ শুরু করেছে। এর পরিণতিতে হামলার সময়কাল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে—কয়েক সপ্তাহের কাজ এখন কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হচ্ছে। তাছাড়া, অপরাধীরা নতুন কৌশলের পাশাপাশি পুরোনো পদ্ধতিগুলোও একত্রিত করে আগের চেয়ে দ্রুত, কার্যকর এবং আরও সংগঠিতভাবে হামলা পরিচালনা করছে।
প্রতিবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে সফোস ‘এসটিএসি৬৯৯৪’ নামের একটি প্রচারণা শনাক্ত করার কথা জানায়। ওই হামলায় অপরাধীরা একটি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কের ভেতরে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট অপারেশন চালিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এআই ব্যবহারের বৃদ্ধি সঙ্গে সঙ্গে নতুন ধরনের ঝুঁকিও বাড়ছে। কোডিং এজেন্ট, অ্যাসিস্ট্যান্ট ও ওপেন-ওয়েট মডেলগুলোর মতো সরঞ্জাম যখন গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ পায়, তখন হামলাকারীরা ওই সিস্টেমের ক্রেডেনশিয়াল, অ্যাক্সেস পারমিশন, ওঅথ কানেকশন এবং এপিআই কীকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়।
সফোসের প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা জন পিটারসন ব্যাখ্যা করেন, হামলাকারীদের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো সিস্টেমে অনুপ্রবেশ। একবার প্রবেশের পর তারা তথ্য চুরি করে। বর্তমানে এআইকে হামলার কার্যক্রমের গতি বাড়ানোর শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর কারণে নিরাপত্তা দলগুলোর হাতে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে, এআইচালিত সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও ডিপফেক প্রতারণা এখন আরও বিশ্বাসযোগ্য, কম ব্যয়বহুল এবং ব্যাপক হয়ে উঠেছে। ফলে ভুয়া এআই বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি ডেভেলপার টুল, ক্রেডেনশিয়াল, মডেল ওয়েট, ট্রেনিং ডেটা ও এমসিপি সার্ভারও সাইবার হামলার ঝুঁকিতে পড়েছে।




