বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান অরেঞ্জ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (অরেঞ্জবিডি) নেদারল্যান্ডস রাজ্যের অন্তর্গত সিন্ট মার্টেন দ্বীপরাষ্ট্রের সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্ব পেয়েছে। দেশটির জাতীয় ডিজিটাল আইডেন্টিটি প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ ও কার্যকর করার কার্যাদেশ অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে নেদারল্যান্ডসের সরকারি উদ্যোগে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কাজ করার সুযোগ তৈরি হলো অরেঞ্জবিডির জন্য।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সিন্ট মার্টেনে ইলেকট্রনিক আইডেন্টিটি, সিঙ্গেল সাইন অন এবং ইলেকট্রনিক সিগনেচারের অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এর ফলে নাগরিকরা একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিচয় ব্যবহার করেই একাধিক সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। বর্তমানে সেবা নিতে গেলে বারবার সশরীরে উপস্থিত হয়ে পরিচয় যাচাই করতে হয় এবং একই ধরনের কাগজপত্র বিভিন্ন দপ্তরে জমা দিতে হয়। নতুন ব্যবস্থায় একবার যাচাইকৃত পরিচয় দিয়ে অনলাইনে প্রবেশ করে একাধিক সেবা নেওয়া যাবে, ফলে কাগজপত্র জমা দেওয়ার ঝামেলা ও সনদ বা প্রত্যয়নপত্রের জন্য অপেক্ষার সময় অনেকটাই কমে আসবে।

সিঙ্গেল সাইন অন চালু থাকায় নাগরিকদের আলাদা আলাদা পোর্টালের জন্য ভিন্ন ভিন্ন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে না। অন্যদিকে ইলেকট্রনিক সিগনেচারের মাধ্যমে সশরীরে স্বাক্ষর বা সিলমোহরের প্রয়োজন ছাড়াই আইনগতভাবে বৈধ ডিজিটাল স্বাক্ষর দেওয়া যাবে। এতে প্রবাসী নাগরিক এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দূরবর্তী স্থান থেকে সরকারি সেবা গ্রহণ অনেক সহজ হবে।

উল্লেখ্য, এর আগেও সিন্ট মার্টেন সরকারের একটি জাতীয় ইন্টার-অপারেবিলিটি প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নের ২৭ মাসের কার্যাদেশ পেয়েছিল অরেঞ্জবিডি। সেই প্রকল্পের আওতায় দেশটির ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি রেজিস্ট্রি — অ্যাড্রেস, ল্যান্ড, সিভিল, বিজনেস, বিজনেস লাইসেন্স এবং ট্যাক্সপেয়ার রেজিস্ট্রি — পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে তথ্য আদান-প্রদানের একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যবসা নিবন্ধন, জন্ম-মৃত্যুনিবন্ধন এবং পাসপোর্টের মতো সেবাগুলো ধাপে ধাপে ডিজিটাইজ করা হচ্ছে।

এতে করে এক দপ্তরে জমা দেওয়া তথ্যই অন্য দপ্তরে ব্যবহার করা যাবে, যা ‘ওয়ান্স-অনলি’ বা ‘একবার তথ্য দিলেই যথেষ্ট’ নীতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। ফলে নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানকে একই তথ্য বারবার জমা দিতে হবে না। নাগরিকদের জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারেন পাঠকেরা — ই-মেইল: ns@prothomalo.com