হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বৃহস্পতিবার ঢাবির বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবের সাময়িক বরখাস্ত সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে নিয়ম জারি করেন। বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ থেকে এই আদেশ আসে। আদালত জানতে চেয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ২৪ জুনের চিঠির মাধ্যমে দেওয়া ওই সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কেন আইনগতভাবে বাতিল বা অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না।

আবেদনটি আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ৫৪ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী নিগার সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জসিদুল ইসলাম জনি এবং শিহাব উদ্দিন খান। পরবর্তীতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিহাব উদ্দিন খান প্রথম আলোকে জানান, রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে যে চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে সাময়িক বরখাস্ত করা সংক্রান্ত ২৪ জুনের চিঠি কেন অবৈধ হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত ২৪ জুন এক চিঠির মাধ্যমে অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্তের বিষয়টি জানায়। চিঠির ভাষ্য অনুসারে, তাঁর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ এবং একাডেমিক কমিটির সকল সদস্য তাঁর সঙ্গে কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করায় সিন্ডিকেটের ২২ জুনের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই দিন থেকে তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিব উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেন। এর আগে গত ২৪ জুন প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে ‘ভাইরাল’ হওয়ায় নয়, বরং তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, একাডেমিক কার্যক্রমবহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কয়েক মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে তিনি আলোচনায় আসেন। শাহ আবদুল করিম, জেমস ও ফজলুর রহমান বাবুর গান গেয়ে ফেসবুকে অনেকের নজরে পড়েন তিনি। অনেক শ্রোতা তাঁর পরিবেশনা শেয়ার করে প্রশংসা করলেও ‘ভিন্নধর্মী সুরে’ গান গাওয়ায় অনেকে আবার তাঁকে নিয়ে বিদ্রূপ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে এ ধরনের আধেয় তৈরি ও প্রকাশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যেও তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয় যে, গান গেয়ে জনপ্রিয়তা অর্জনের কারণে নয়, বরং নানা অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতেই সিন্ডিকেট এই সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে সাময়িক বরখাস্তের পেছনে গান পরিবেশনের কোনো ভূমিকা নেই বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করে।