আগামী জানুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এ সময় উপাচার্য তাকে সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানালে তিনি সাগ্রহে তা গ্রহণ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক ও সিন্ডিকেট সদস্য মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মো. মোর্শেদ হাসান খানও উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাতের সময় উপাচার্য প্রধানমন্ত্রীকে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি এবং প্রস্তাবিত ২০ বছর মেয়াদি একাডেমিক উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানান। শিক্ষা ও গবেষণা কর্মকাণ্ড, শিল্প-শিক্ষাঙ্গন সম্পর্ক জোরদারকরণ এবং বিশ্বের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যৌথ উদ্যোগের বিষয়েও তাকে অবহিত করেন তিনি।
এছাড়া প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্কিং সম্প্রসারণ ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সাম্প্রতিক নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের চিত্রও তুলে ধরেন উপাচার্য। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ও গৌরবময় অবদানের কথা স্মরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিশেষ মর্যাদা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান তিনি। গবেষণা তহবিল বৃদ্ধি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তৃতীয় ভাষা, জীববিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি ও রোবোটিকস খাতে শিক্ষা-গবেষণার প্রসার এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়েও আলোচনা হয়।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে আবাসিক হল, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলোতে সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন উপাচার্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিশেষ মর্যাদা প্রদান এবং শিক্ষা-গবেষণার উন্নয়নে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্মানজনক অবস্থানে নিতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক সহযোগিতা ও মমত্ববোধের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।




