ব্যক্তিগত কারণে পড়াশোনায় বিরতি তৈরি হওয়ায় আবার শুরু করার সময় বাংলাদেশে থেকেই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণের উপায় খুঁজছিলেন এক শিক্ষার্থী। খরচ সাধ্যের মধ্যে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব দ্য পিপলের সন্ধান পান তিনি। ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাদেনায় অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে যুক্ত হতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষাপদ্ধতি ও স্কলারশিপের সুযোগ তাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল। একাডেমিক কাগজপত্র, আইইএলটিএস স্কোরসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে আবেদনের পর বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ পান তিনি। বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করেই সেখানে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করছেন।

ভর্তির জন্য আইইএলটিএসে তার স্কোর ছিল ৬। পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন ও নেতৃত্ববিষয়ক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতার সনদও জমা দিতে হয়েছে। এই অভিজ্ঞতাগুলো কমিউনিকেশন, দলগত কাজ ও নেতৃত্বের দক্ষতা অর্জনে সহায়ক হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পড়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশে অবস্থান করেই আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ। ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকায় নির্দিষ্ট ক্লাস সূচির সঙ্গে তাল মেলানো তার জন্য কঠিন হতো, কিন্তু অনলাইন ক্লাস ও ফ্লেক্সিবল পদ্ধতির কারণে পেশাদার দায়িত্বের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে।

আরেকটি বড় সুবিধা হলো ৭০ শতাংশ স্কলারশিপ, যা অর্থনৈতিক দিক থেকে তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার চ্যালেঞ্জও রয়েছে। নিজের পড়াশোনার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হয়। প্রথমদিকে ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ চ্যালেঞ্জিং ছিল, কারণ কোনো সমস্যায় পরামর্শক বা কর্তৃপক্ষের জবাব পেতে সময় লেগে যেত। ব্যবসা ও পড়াশোনা দুটো একসাথে সামলানো প্রথম দিকে কঠিন হলেও ধীরে ধীরে মানিয়ে নিয়েছেন তিনি।

পরীক্ষা পদ্ধতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইএসএল প্রোগ্রামকে ফাউন্ডেশন কোর্স হিসেবে গণ্য করা হয়। এই কোর্স শেষে প্রক্টরের সামনে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। পরীক্ষার রুম আগে দেখাতে হয়, টেবিলে ল্যাপটপ ও ওয়েবক্যাম ছাড়া অন্য কিছু রাখা যায় না এবং সাময়িক সময়ের জন্য ল্যাপটপের স্ক্রিনের অ্যাক্সেসও নিয়ে নেওয়া হয়। কঠোর নিয়মের মধ্যে এই পরীক্ষায় তিনি ৮১.৫৬ শতাংশ মার্কস পেয়ে বি গ্রেডে পাস করেন। প্রথম টার্মে একটি কোর্সে ১০০-এর মধ্যে ৯২ এবং আরেকটি কোর্সে ৮০ পেয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক গ্রেডিংয়ে এগুলিকে এ ও বি লেভেল পারফরম্যান্স হিসেবে গণ্য করা হয়। নিয়মিত অ্যাসাইনমেন্ট, আলোচনা ও পরীক্ষার মাধ্যমে ধারাবাহিক ভালো ফল ধরে রাখতে হয়।

ভালোভাবে পাস করতে পারলে বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা বা ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ রয়েছে। জার্মানি, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে এখানকার শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরির সুযোগ উন্মুক্ত। ভর্তির সময় তিনি স্কলারশিপের জন্য আবেদন করেন এবং আবেদন ও তথ্য বিবেচনা করে ৭০ শতাংশ স্কলারশিপ পান। ভবিষ্যতে ৩৬ ক্রেডিট সম্পন্ন করার পর ক্রেডিট ট্রান্সফারের সম্ভাবনা খোঁজার ইচ্ছা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করাই তার অন্যতম বড় একাডেমিক লক্ষ্য।