গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসের বক্সিং প্রতিযোগিতায় উগান্ডার প্রয়াত স্বৈরশাসক ইদি আমিনের নাতি আজিজ আবদুলের অভিষেক স্মরণীয় হয়ে রইল বিতর্কের কারণে। সুপার হেভিওয়েট বিভাগের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের ডামার টমাসের বিপক্ষে লড়াইয়ের সময় তিনি প্রতিপক্ষকে মাথা দিয়ে আঘাত (হেডবাট) করায় অযোগ্য ঘোষিত হন। ম্যাচের শেষ রাউন্ডের মাঝামাঝি সময়ে টমাসের থুতনিতে মাথা উঁচিয়ে আঘাত করার পর রেফারি তাঁকে চূড়ান্ত সতর্কতা দিয়ে প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কার করেন, যার ফলে গ্যালারিতে থাকা দর্শকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এর আগে দ্বিতীয় রাউন্ডে এলোপাথাড়ি পাঞ্চ চালানো ও প্রতিপক্ষকে জড়িয়ে ধরা অবস্থা থেকে বের হওয়ার সময় বারবার মুখে আঘাত করার কারণে আজিজের পয়েন্ট কাটা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট তালিকায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কায় তিনি এই হেডবাট করেন বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। ম্যাচের প্রথম রাউন্ডে আজিজ তিনটি লেফট হুক মারলেও টমাসের নিখুঁত ও দ্রুতগতির লেফট পাঞ্চের মুখে পড়ে তাঁকে স্ট্যান্ডিং কাউন্টের (নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা) সম্মুখীন হতে হয়।
অযোগ্য হওয়ার পর নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে আজিজ বলেন, ‘রেফারির এই সিদ্ধান্ত মোটেই ঠিক নয়, আমি এতে মোটেও সন্তুষ্ট নই। অবশ্যই এটি অন্যায়। আপনারা ইংল্যান্ডের আগের ম্যাচগুলো দেখবেন, তাদের বক্সাররাই সবচেয়ে বেশি ফাউল করে আর নানা ধরনের ভণ্ডামি করে। আমি একজন কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান, সবই বুঝি। জানি না এই ম্যাচ নিয়ে অফিশিয়ালরা কেন এত আতঙ্কিত।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘আমি কেন কাউকে মাথা দিয়ে আঘাত করব? আমি কখনোই এটা করব না। তারা চেয়েছে টমাস জিতুক, বিজয়ী হিসেবে সে আগেই নির্ধারিত ছিল! আমি জানতাম ওকে নকআউট করতে না পারলে জিততে পারব না, কারণ, ও নিজ দেশে খেলছে। আমার জন্য এটা পরবাসী লড়াই। শুধু এটুকু বলব, যা হয়েছে সব ঈশ্বরের ইচ্ছায় এবং ওর পরবর্তী লড়াইয়ের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছি।’
ম্যাচ শেষে আজিজ প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। কারণ, সেই সাংবাদিক তাঁর স্বৈরাচারী দাদা ইদি আমিনকে নিয়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন লিখেছিলেন। আজিজ ওই সাংবাদিককে বলেন, ‘না, আপনাকে নয়। আপনাকে আমার একদম পছন্দ নয়।’ উগান্ডা দলের এক কর্মকর্তা পরে বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আপনি তাঁর দাদাকে নিয়ে যেসব কথা লিখেছিলেন, সে কারণেই এমনটা করছে।’
১৯৭১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর ইদি আমিন উগান্ডায় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষকে হত্যা করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া এশীয় বংশোদ্ভূত প্রায় ৮০ হাজার মানুষকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছিলেন তিনি। ২০০৩ সালে মারা যাওয়া ইদি আমিন স্কটল্যান্ডের প্রতি বিশেষ অনুরাগের কারণে ১৯৭৬ সালে রসিকতা করে নিজেকে ‘দ্য লাস্ট কিং অব স্কটল্যান্ড’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন, যা থেকে পরবর্তীতে অস্কারজয়ী একটি চলচ্চিত্র তৈরি হয়। এবার আজিজ আবদুলও গ্লাসগোয় গিয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাঁর স্বপ্ন ‘স্কটল্যান্ডের নতুন রাজা’ হওয়া।
উল্লেখ্য, দাদা ইদি আমিনের সঙ্গে কখনোই দেখা হয়নি আজিজের। স্বৈরশাসক আমিনও একসময় বক্সার ছিলেন। কমনওয়েলথ গেমসে নামার আগে এক সাক্ষাৎকারে আজিজ বলেছিলেন, ‘(আমিনের) তাঁর সাফল্য আমাকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে। আমার মতোই তিনিও ছিলেন এক হেভিওয়েট বক্সার, আর তাঁকে নিয়ে আমি ভীষণ গর্বিত। সিংহ তো সিংহেরই জন্ম দেয়। সিংহের ঘরে কখনো কুকুর কিংবা উট জন্মায় না, সিংহের মতো সিংহকেই জন্ম নিতে হয়। আমি এক খাঁটি যোদ্ধা—সিংহের বংশধর।’




