বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের তিক্ততা ভুলতে নানা রকম ব্যস্ততায় সময় কাটাচ্ছেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা। কেউ গৃহে অবস্থান করছেন, আবার কেউ চলচ্চিত্র দেখছেন। তবে সেন্টারব্যাক ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে দেখা গেছে ছুটির আমেজে। তাঁর বান্ধবী ও সন্তানদের সাথে কোথায় সময় কাটাচ্ছেন, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে ভক্তদের মধ্যে।
রোমেরোর ক্লাব পরিবর্তনের খবর শিরোনামে থাকলেও তিনি বর্তমানে সমুদ্র সৈকতে সময় কাটাচ্ছেন। টটেনহ্যামের এই তারকা খেলোয়াড়ের এজেন্টের সাথে ইন্টার মিলানের আলোচনা চূড়ান্ত হয়নি বলে শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও বার্সেলোনা তাঁকে দলে নিতে আগ্রহী বলে গুঞ্জন রয়েছে। শেষ মুহূর্তের এই জটিলতা নিয়ে অবশ্য রোমেরোকে খুব একটা চিন্তিত মনে হচ্ছে না। তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখে ভক্তরাও সেটাই ধারণা করছেন।
পরিবারের সদস্যদের সাথে কাটানো মুহূর্তের অসংখ্য ছবি নিজের ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে শেয়ার করেছেন তিনি। একটি ছবির ক্যাপশনে রোমেরো লিখেছেন, 'আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ—তোমরাই।'
অন্যান্য ফুটবলারদের সঙ্গীদের তুলনায় রোমেরোর বান্ধবী কারেন কাভাই সামাজিক মাধ্যমে ততটা সক্রিয় নন। বরং নিজের জীবন 'প্রাইভেট' রাখতেই পছন্দ করেন তিনি। কারেন কাভাইও রোমেরোর মতো আর্জেন্টিনার কার্দোবা শহরে বেড়ে উঠেছেন। পরিচয় হয়েছে কমন বন্ধুদের মাধ্যমেই। মানবসম্পদ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন কারেন।
২০১৮ সালে রোমেরো ইতালির ক্লাবে খেলতে গেলে তাদের একসঙ্গে সংসার শুরু হয়। ইতালি, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড মিলিয়ে বসবাস করছেন তারা। তাদের ঘরে দুই সন্তান এসেছে। রোমেরোর খেলা দেখতে প্রায়ই মাঠে যান কারেন। ম্যাচ জয়ের পর বান্ধবী ও সন্তানদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ভালোবাসেন তিনি। সময় পেলেই তাদের নিয়ে বেড়াতে বের হন। যদিও বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, নিরাপত্তার কারণে তা প্রকাশ করেননি। তবে ছবি দেখে অনেক ভক্তের ধারণা, তিনি মেক্সিকোর কোনো রিসোর্টে অবস্থান করছেন।
২৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার বিশ্বকাপ জুড়ে নানাভাবে আলোচিত হয়েছেন। দলের জয়ে তাঁর অবদান থাকলেও সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে। তবে তাতে দমে না গিয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছেন তিনি। ফাইনালের আগে ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা গ্যারি নেভিল তাঁর কঠোর সমালোচনা করলে রোমেরো তাঁকে 'মূর্খ' বলে আখ্যায়িত করেন। নেভিল অবশ্য নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন, রোমেরো ও এমিলিয়ানো মার্তিনেজের প্রতিদিন লিওনেল মেসির প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত, কারণ মেসিই দলকে রক্ষা করেছেন।
২০২২ সালে বিপুল অঙ্কের বিনিময়ে টটেনহ্যামে যোগ দেওয়া রোমেরো দলের প্রতি বিরক্ত বলে জানা যাচ্ছে। চোটের কারণে পুনর্বাসনের জন্য আর্জেন্টিনায় ফিরতে চাইলে ক্লাবের একাংশের সাথে মনোমালিন্য হয়। এর ওপর গ্যারি নেভিলের সাথে প্রকাশ্য বিতর্ক যোগ হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তিনি ইতালির কোনো ক্লাবে নাকি বার্সেলোনায় যোগ দেন।




