ইউরোপীয় ফুটবলের শীর্ষ কর্তারা ফিফার বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কাতারের শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব নাসের আল-খেলাইফিকে মাঠে নামানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি)-এর প্রেসিডেন্ট এবং কাতার স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্টসের চেয়ারম্যান আল-খেলাইফি ইতিমধ্যেই ফুটবলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। ইউরোপীয় ফুটবল কর্তাদের ধারণা, ইনফান্তিনোকে সরানোর সবচেয়ে শক্তিশালী বিকল্প এই কাতারি ব্যবসায়ীই।

মঙ্গলবার বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বিক্রির একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করে ফুটবল বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেন ইনফান্তিনো। এই প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজন ও পরিবারের সদস্যরাও জড়িত থাকতে পারেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে, যা ফুটবলমহলে ব্যাপক অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। এর জেরে বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠকে বসছে উয়েফা। বৈঠকে সদস্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে টুর্নামেন্ট বয়কট এবং ইনফান্তিনোকে পদ থেকে সরানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।

একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা টেলিগ্রাফ স্পোর্টকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প বা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ছাড়া অন্য যেকোনো প্রার্থীকে তিনি সমর্থন দেবেন। তবে আল-খেলাইফির প্রার্থিতা নিয়ে যারা আশাবাদী, তাদের জন্য বাস্তবতা বেশ জটিল। তাঁর এক প্রতিনিধি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ফিফার শীর্ষ পদে তাঁর কোনো আগ্রহ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা পরিকল্পনা নেই। তিনি বিশ্ব ও ইউরোপীয় ফুটবলের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নীরবে সমর্থন দিয়ে যেতে চান।

৫২ বছর বয়সী আল-খেলাইফি ইতিমধ্যেই ফুটবলের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। সুপার লিগ প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার পর পাঁচ বছর আগে তিনি ইউরোপিয়ান ফুটবল ক্লাবস (ইএফসি)-এর চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। এর আগে এটি ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশন নামে পরিচিত ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উয়েফা নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগসহ একাধিক দেশে সম্প্রচার স্বত্বের মালিক প্রতিষ্ঠান বিইন মিডিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান। অক্টোবর থেকে তিনি ইএফসির প্রতিনিধি হিসেবে ফিফা কাউন্সিলের সভাতেও অংশ নিচ্ছেন।

বুধবার বিশ্বকাপ অংশীদারত্ব বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ‘গুরুতর উদ্বেগ’ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ইএফসি। তবে সরাসরি নিন্দা জানানো থেকে বিরত থাকে সংগঠনটি। বিবৃতিতে বলা হয়, ৮৫০টির বেশি ক্লাবের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এত বড় একটি প্রস্তাবে তাদের সঙ্গে আলোচনা হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু গণমাধ্যমের মাধ্যমেই তারা বিষয়টি জানতে পেরেছেন।

দায়িত্বে থাকা কোনো ফিফা প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করা ঐতিহাসিকভাবেই প্রায় অসম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন ফিফার ২১১টি সদস্য সংস্থার সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন, যার মধ্যে ইউরোপের সংখ্যা মাত্র ৫৫। ফুটবল বিশ্বের নানা ক্ষেত্রে আল-খেলাইফির প্রভাব এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসার বিষয়টি তাত্ত্বিকভাবে তাঁকে ব্যাপক সমর্থন এনে দিতে পারে, তবে তা যথেষ্ট নাও হতে পারে। ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব পাওয়াকে কেন্দ্র করে ২০১৫ সালে ফিফায় যে দুর্নীতি কেলেঙ্কারি প্রকাশ পেয়েছিল এবং কাতারের মানবাধিকার রেকর্ড—এই দুটি বিষয় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা যেকোনো প্রার্থীর প্রার্থিতাকে বিতর্কের মুখে ফেলতে পারে।