বর্তমানে কর্পোরেট জগতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিত্ব ও সাংস্কৃতিক মানসিকতা যাচাইকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনেক শীর্ষ নির্বাহী নানা কৌশলের মাধ্যমে প্রার্থীর প্রকৃত স্বভাব বোঝার চেষ্টা করেন। ৪৫ মিনিটের ডিনারের মাধ্যমে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব পরখ করেন টোয়েলোর প্রধান খোজেমা শিপচ্যান্ডলার। তিনি লক্ষ করেন প্রার্থী কতবার 'আমি' শব্দটি ব্যবহার করেন, যা দলগত মনোভাবের অভাব নির্দেশ করতে পারে। বুপার প্রধান ইনাকি ইরেনো প্রার্থীদের ৬ ঘণ্টার পরীক্ষার মুখোমুখি করেন এবং খাবারের সময় ওয়াইন অর্ডার করতে বলেন, যা উদ্যোগের পরিচায়ক বলে তার বিশ্বাস। কেউ কেউ খাবারের আগে লবণ খাওয়াকে অধৈর্য্যের লক্ষণ হিসেবে দেখেন, আবার কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অর্ডার ভুল করিয়ে প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। এমনকি অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের 'বিয়ার টেস্ট' ছিল, যেখানে তিনি প্রার্থীর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে হাঁটতেন এবং নিজেকে প্রশ্ন করতেন—এই ব্যক্তির সঙ্গে কি আমি আরামে বিয়ার খেতে পারব? উত্তর না হলে প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হতো না।

এই ধারাতেই নেটস্কোপের প্রধান নির্বাহী সঞ্জয় বেরি আরও একধাপ এগিয়ে গেছেন। তিনি শুধু প্রার্থীর দেওয়া রেফারেন্স নয়, বরং প্রার্থী যাদের নাম উল্লেখ করেননি, তাদেরও খুঁজে বের করে ফোন করেন। ফরচুনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেরি জানান, নেটস্কোপ নিয়োগের সময় ব্যাপক পটভূমি যাচাই ও রেফারেন্স চেক করে থাকে, যার অধিকাংশই সাংস্কৃতিক সামঞ্জস্যের ওপর ভিত্তি করে। তিনি বলেন, 'আমরা প্রার্থীর পরিচিতজনদের খুঁজে বের করি, হয়তো যাদের নাম তারা দেয়নি।' এর মাধ্যমে প্রার্থীর প্রকৃত ব্যক্তিত্ব ও আচরণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব হয়।

বেরি প্রার্থী ও তার সাবেক নিয়োগকর্তাদের একই প্রশ্ন করেন—মতবিরোধের সময় প্রার্থী কীভাবে আচরণ করে, কঠিন পরিস্থিতিতে তার প্রতিক্রিয়া কেমন হয়। তিনি জানতে চান প্রার্থী তার সহকর্মীদের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক রাখে, বিশেষ করে বিপণন ও বিক্রয় বিভাগের মতো প্রায়ই দ্বন্দ্বে লিপ্ত বিভাগগুলোর মধ্যে সম্পর্ক কেমন। বেরি মনে করেন, ব্যবসা গড়ে তোলা একটি উঁচুনিচু পথ, তাই সাফল্যের মতো কঠিন সময়েও প্রার্থীর আচরণ বোঝা জরুরি।

ব্যক্তিত্বকে তিনি দক্ষতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। বেরি বলেন, 'সহযোগিতাপূর্ণ, উন্মুক্ত ও ভালো মানুষ হওয়ার ধারণাটি যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মানুষ কোম্পানি গড়ে তোলে—কিন্তু তারাই কোম্পানিকে ধ্বংসও করে।' তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সাংস্কৃতিক মানসিকতায় ৯ নম্বর ও পেশাগত জ্ঞানে ৭ নম্বর প্রার্থীকে তিনি বিপরিতটির চেয়ে প্রতিদিনই পছন্দ করবেন। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত নেটস্কোপ ২০১৮ সালে ইউনিকর্ন স্ট্যাটাস অর্জন করে এবং গত বছর নাসডাকে পাবলিক হয়। বর্তমানে ২২০টির বেশি দেশে ৩ হাজারের বেশি কর্মী নিয়ে কাজ করছে কোম্পানিটি।

শুধু নিয়োগ নয়, নিয়োগের পরেও কর্মীদের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের ওপর মূল্যায়ন করা হয় নেটস্কোপে। বছরের শেষে সবাইকে উন্মুক্ততা, সহযোগিতা ও উদ্ভাবনের মতো বিষয়ে রেটিং দেওয়া হয়, যা তাদের কর্মক্ষমতা মূল্যায়নে প্রভাব ফেলে। এই বিষয়ে দলনেতা, সহকর্মী ও অধস্তনরা সবাই মতামত দেন। যারা এই বৈশিষ্ট্যে শীর্ষে থাকেন, তাদের পুরো কোম্পানিতে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এসএফ রিক্রুটমেন্টের প্রধান নির্বাহী সাইরা ডেমার ফরচুনকে বলেন, সাংস্কৃতিক মানসিকতা যাচাইয়ের এই পদ্ধতিগুলো ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। তিনি জানান, যেসব নেতা নিয়োগের সময় এই বিষয়টিতে গুরুত্ব দেন, তাদের তিনি সাধুবাদ জানান। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বর্ধনশীল কোম্পানিগুলোর জন্য সঠিক সাংস্কৃতিক মানসিকতার মানুষ নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ একটি ভুল নিয়োগ বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা সংস্কৃতিকে নষ্ট করে দিতে পারে।