জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অফিস সহায়ক পদে চাকরি পাওয়ার জন্য নিজেদের বদলে অন্য ব্যক্তিদের (প্রক্সি পরীক্ষার্থী) দিয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার চার আসামিকে সাত দিনের হেফাজতে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার শাহবাগ থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল গাফফার হিমেল এই আবেদন করায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত আগামী ২৩ জুলাই শুনানির দিন ধার্য করেছেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটক চার ব্যক্তি হলেন টাঙ্গাইলের গোপালপুরের মো. আ. আলিম, সিরাজগঞ্জের চৌহালীর মো. আলী হায়দার, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর মো. রাসেল রানা লিটন এবং গাজীপুরের শ্রীপুরের মো. মাসুদ ফকির। গত রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে সচিবালয় থেকে এদের আটকের পর শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এইচ এম আরিফুর রহমান বাদী হয়ে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিবরণী অনুসারে, মো. আ. আলিমের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয় ২৪ জুন, মো. আলী হায়দার ও রাসেল রানা লিটনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২৫ জুন এবং মো. মাসুদ ফকিরের পরীক্ষা নেওয়া হয় ২৮ জুন। চারজনের পরীক্ষার নির্দিষ্ট সময় বেলা ২টা ছিল। ওই সময়ে উপস্থিত সব প্রার্থীর প্রবেশপত্রসহ ছবি ধারণ করে রাখা হয়।
৬ জুলাই অফিস সহায়ক পদে ২০ জনকে চূড়ান্তভাবে বেছে নিয়ে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। নিয়োগপত্রে বলা হয়, ১৯ জুলাই সকাল ১০টায় সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের ১৮০২ নম্বর কক্ষে যুগ্ম সচিবের (প্রশাসন অধিশাখা) কাছে যোগদানপত্র জমা দিতে হবে। নির্ধারিত দিনে ওই চারজনের উপস্থিতিতে পরীক্ষার সময় তোলা ছবির সঙ্গে তাদের চেহারার মিল না থাকায় সন্দেহ দেখা দেয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, প্রকৃতপক্ষে অন্য ব্যক্তিরা তাদের পক্ষে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। তারা নিজেরা পরীক্ষা দেননি। পরে তারা লিখিতভাবে দোষ স্বীকার করে বিবৃতি দেন।
বাদী আরিফুর রহমান তার এজাহারে উল্লেখ করেন, মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া রেজিস্ট্রেশনধারী ব্যক্তিদের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের চেহারার অমিল ধরা পড়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাদের দেওয়া তথ্যেই প্রতারণার বিষয়টি ফাঁস হয়।
উল্লেখ্য, গত ৫ মে সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। অফিস সহায়ক পদের জন্য ২৩ হাজার ৭০৯ জন আবেদন করেন, যার মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় ৯ হাজার ৩১৮ জন অংশ নেন। ১৯ জুন পাঁচটি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওই পরীক্ষা থেকে ১০৭ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল।




