রাজধানীর তুরাগ থানার ফুলবাড়িয়া বালুর মাঠ এলাকায় গত ১৬ জুলাই ঘটে যায় এক নির্মম ঘটনা। সাত মাস বয়সী কন্যা সন্তান রাফা মনি কবিতাকে আছাড় মেরে হত্যা করেন তার বাবা কবির ইসলাম। পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী লিমা আক্তারের সাথে ঝগড়ার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটিকে তার নানির কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা কবিরকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরদিন ১৭ জুলাই ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। সেই সময় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে শিশুটির নানি শারমীন আক্তার তুরাগ থানায় কবিরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে ওই মামলার তদন্ত করছেন থানার এসআই মেহেদী হাসান ফয়সল।
আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন কবিরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। বিচারকের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দিন জানান, তদন্ত কর্মকর্তার অনুরোধে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে গত ১৮ জুলাই তুরাগ থানার এসআই মেহেদী হাসান ফয়সল গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আজ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছিলেন। শুনানি শেষে আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে কবিরের সাথে লিমা আক্তারের বিয়ে হয়। কবির রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদক সেবনের প্রভাবে তিনি প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর ও গালিগালাজ করতেন। ১৬ জুলাই সন্ধ্যা সাতটার দিকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। সেই ঝগড়ার সময়ই কবির ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুকে নানির কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে মাথার ওপরে তুলে সড়কে আছাড় মেরে ফেলে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।




