রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা একটি মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগের মামলার জের ধরে পুলিশ একটি আন্তঃজেলা অপরাধী চক্রের সন্ধান পেয়েছে। ডিএমপির ভাটারা থানা থেকে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত এক সংবাদ বিবরণীতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবরণীতে বলা হয়, এ মামলায় আটজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের দেওয়া সূত্র ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৪ জুন, যখন ভাটারা থানায় একটি মোটরসাইকেল চুরির মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে নামার পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি রেকর্ডিং পরীক্ষা করে সেদিনই খিলবাড়ীটেক এলাকা থেকে সোহেল (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ জুন রিপন (৪৫) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে রিপনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ৩৩টি মামলা রয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হলে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।

পুলিশ এই তথ্যের ভিত্তিতে ১ জুলাই কুমিল্লার নাঙ্গলকোট এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ৯টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয় এবং চক্রের আরও দুই সদস্যকে আটক করা হয়।

পরবর্তীকালে, রিপন ও অন্য গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য ধরে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে চক্রের আরেক সদস্য নুরুজ্জামান জামালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে। পুলিশ জানায়, জামালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ সদর, ফুলপুর ও নেত্রকোণা সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১১টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। এই অভিযানে নেত্রকোণা থেকে চক্রের আরও তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

তদন্তে বেরিয়ে আসে, নুরুজ্জামান জামাল ও রিপন রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণায় বিক্রি করত।

উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর মধ্যে রয়েছে ৬টি পালসার, ৩টি ডিসকভার ১২৫ সিসি, ২টি হোন্ডা শাইন, ২টি টিভিএস মেট্রো প্লাস, এবং একটি করে হিরো গ্ল্যামার, বাজাজ বক্সার, হোন্ডা লিভো ১১০ সিসি, হোন্ডা এক্স-ব্লেড, টিভিএস স্ট্রাইকার, হিরো হোন্ডা ও ইয়ামাহা এফজেড-এস ভার্সন-৩।