নাটোরের সিংড়া উপজেলায় এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। তাঁর স্বামী মো. আবদুল্লাহকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের কুঞ্চী গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী গৃহবধূ ধারালো অস্ত্রের আঘাতেই প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত বুলবুলি খাতুনের (২৫) বয়স ২৫ বছর। তিনি একই এলাকার আবদুল্লাহর স্ত্রী। পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, বুলবুলি সাত মাসের গর্ভবতী ছিলেন। তাঁর ভাষ্য, ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সেদিন বিকেল পাঁচটার দিকে আবদুল্লাহ ও বুলবুলির মধ্যে হঠাৎ বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। তর্কের একপর্যায়ে আবদুল্লাহ একটি ধারালো অস্ত্র নিয়ে স্ত্রীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। বুলবুলির আর্তনাদ শুনে আশপাশের মানুষ ছুটে এলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যান।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন বুলবুলিকে দ্রুত একটি স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ মরদেহটি হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অভিযুক্ত আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালায়। এলাকাবাসীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে দ্রুত শনাক্ত করে আটক করা হয়। পরে তাঁকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে পুলিশ নিজ উদ্যোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।
ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত বুলবুলি দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যে ভুগছিলেন, তবে এবারই প্রথম সহিংসতার ঘটনা ঘটল। প্রতিবেশীরা জানান, তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো কিন্তু এত বড় ঘটনা ঘটতে পারে কেউ কল্পনাও করেনি।
পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অভিযুক্তকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সম্ভাবনাও রয়েছে। এ ঘটনায় সিংড়া উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কয়েকদিন সতর্ক অবস্থায় থাকতে দেখা যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।




