রাজধানীর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক অদ্ভুত কৌশলে মাদক পাচারের চেষ্টা ধরা পড়েছে। কারাবন্দী এক আসামিকে দেওয়া পাউরুটির মধ্যে লুকিয়ে গাঁজা নেওয়ার সময় পুলিশের তৎপরতায় তা আটক করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার, যখন আসমি মো. মামুনকে ঢাকার মুখ্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আরিফুল ইসলামের এজলাসে হাজির করা হয়েছিল।
আদালতের কার্যক্রম শেষে তাঁকে পুনরায় হাজতখানায় নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে আদালত চত্বরেই আসমির এক স্বজন এসে একটি পাউরটির প্যাকেট খাবার হিসেবে হস্তান্তর করেন। শুরুর দিকে দায়িত্বরত কনস্টেবল এতে অনুমতি দিতে রাজি না হলেও, মানবিক কারণ বিবেচনা করে পাউরটি নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
কিন্তু এরপরই সন্দেহজনক কিছু আঁচ করতে পারেন এসকর্টের দায়িত্বে থাকা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের কনস্টেবল মো. শাহেদ। তিনি পাউরটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করতে গিয়ে দেখতে পান, এর ভেতরে কাগজে মোড়ানো দুই পুরিয়া গাঁজা লুকিয়ে রাখা হয়েছে। বিষয়টি প্রসঙ্গে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল বলেন, "প্রথম দিকে তল্লাশিতে কিছু ধরা পড়েনি। কিন্তু পরে দেখা যায়, পাউরুটিতে একটি ছোট ছিদ্র রয়েছে। সেটি ভালোভাবে পরীক্ষা করতেই ভেতর থেকে ওই মাদকগুলো বেরিয়ে আসে।"
ঘটনাটি ঘটে বিকাল তিনটার পরে। তল্লাশির সময় পকেটটিতে বাইরে থেকে কোনো অস্বাভাবিকতা বোঝা যায়নি বলেই জানা গেছে। পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও জানান, কে বা কারা এই পাউরটি এনেছিল, তা নির্ধারণের জন্য আদালত প্রাঙ্গণের সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ডকৃত ফুটেজ পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আসমি মামুনকেও এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। পাইয়ে দেওয়া ব্যক্তিকে শনাক্ত করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আসলে মামুন কোন অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন, তাৎক্ষণিকভাবে সেটি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে জানান ডিসি মহিউদ্দিন মাহমুদ। তবেঃ এ ঘটনার পর একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কাজ চলছে।




