রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় ঋণ সম্পর্কিত বিরোধের জেরে এক শিক্ষককে ব্যাংক থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় চতরা ইউনিয়ন আওয়ামী লী গের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার চতরাহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তি হলেন গোলাম রব্বানী, যিনি সরলিয়া টিএম ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, প্রভাষক গোলাম রব্বানী ও আওয়ামী লী গ নেতা জিয়াউর রহমান জিয়ার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ঋণ বা দাদনের টাকা লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। এই বিরোধের সূত্রপাতেই রোববারের এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। অভিযোগের বরাত দিয়ে জানা যায়, গোলাম রব্বানী চতরাহাটের সোনালী ব্যাংকে অবস্থান করার সময় জিয়াউর রহমান ও তার সহযোগীরা তাকে জোর করে সেখানে থেকে তুলে নিয়ে যান। পরবর্তীতে বাজারের একটি দোকানে নিয়ে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় এবং হুমকি প্রদর্শন করা হয়।
এক পর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত সেবার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আহত শিক্ষকের স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম তার স্বামীর প্রতি এহেন আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আমার স্বামীকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ব্যাংক থেকে তুলে নিয়ে নির্মম ভাবে প্রহার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’ তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে, অভিযোগের সম্পূর্ণ বিপরীত বক্তব্য দিয়েছেন আওয়ামী লী গ নেতা জিয়াউর রহমান জিয়া। মুঠোফোনে তিনি দাবি করেন যে গোলাম রব্বানীর কাছ থেকে তার টাকা পাওনা রয়েছে। জিয়া বলেন, ‘আমার টাকা চাওয়ার জন্যই ওরা আমাকে একটি ফাঁদে ফেলেছে। এমনকি গত বছর আমাকে ডেকে নিয়ে জিম্মি করে ফাঁকা স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর করানো হয়। বিষয়টি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, আমি কোনো মারামারি করিনি।’
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমূল হক জানান, এই ঘটনা সম্পর্কিত কোনও লিখিত অভিযোগ এখনও থানায় দায়ের করা হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়, তবেই তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




