২০২৬ সালের শুরুতে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য পরিস্থিতি অনুকূলে ছিল না। নিয়োগের গতি মহামারির সময়কার সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসে। জুন মাসে মার্কিন নিয়োগকর্তারা মাত্র ৫৭ হাজার নতুন পদ উন্মুক্ত করেন, যা আগের মাসের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যে এই পতন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

চাকরি কাটার মাত্রা আরও উদ্বেগজনক। গত বছর ১২ লাখ ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়, যা ২০২৪ সালের প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজারের তুলনায় ৫৮ শতাংশ বেশি। চ্যালেঞ্জার, গ্রে অ্যান্ড ক্রিসমাসের ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে কর্মী হ্রাসের মাত্রা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ এবং ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের সময়কার ১২ লাখ ২০ হাজারের কাছাকাছি।

অন্যদিকে, ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মানবসম্পদ বৃদ্ধি করতে প্রস্তুত। কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রবার্ট হাফের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রায় ৬৬ শতাংশ নিয়োগকর্তা স্থায়ী কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছেন। প্রথমার্ধে এই হার ছিল ৬০ শতাংশ, এক বছর আগে ছিল ৫৭ শতাংশ। চুক্তিভিত্তিক প্রতিভা যোগ করার ইচ্ছাও বেড়েছে। ৫৬ শতাংশ আমেরিকান নিয়োগকর্তা এমন বিশেষায়িত দক্ষতার জন্য অস্থায়ী কর্মী নিতে চান, যা বর্তমানে বাজারে স্বল্প। দক্ষতার ঘাটতির কারণে প্রায় অর্ধেক প্রতিষ্ঠানকে তাদের প্রকল্প বাতিল করতে হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে রবার্ট হাফের জেলা পরিচালক মিশেল রেইসডর্ফ ফর্চুনকে জানান, নিয়োগকর্তারা এখন এমন এক সীমায় পৌঁছেছেন যেখানে আরও অপেক্ষা করা কার্যত কোনো বিকল্প নয়। তিনি বলেন, ব্যবসায়িক অগ্রাধিকার এগিয়ে নেওয়া জরুরি। প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল সংখ্যার জন্য নিয়োগ দিচ্ছে না, বরং লক্ষ্য অর্জনে সরাসরি ভূমিকা রাখবে এমন পদে বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক।

নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি খাত সবচেয়ে এগিয়ে—৭৮ শতাংশ নিয়োগকর্তা এখানে কর্মী খুঁজছেন। এর পর স্বাস্থ্যসেবায় ৭৫ শতাংশ, অর্থ ও হিসাববিজ্ঞানে ৭৪ শতাংশ, বিপণন ও সৃজনশীল কাজে ৬৫ শতাংশ এবং আইনি খাতে ৫৮ শতাংশ চাহিদা রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে কিছু প্রতিষ্ঠান সহায়ক ভূমিকায় কর্মী কমালেও মানবসম্পদে ৫৬ শতাংশ এবং প্রশাসনিক ও গ্রাহক সেবায় ৫২ শতাংশ পেশাদারদের চাহিদা এখনও উচ্চ।

গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প সচল রাখতে অভ্যন্তরীণ কর্মীদের স্থলাভিষিক্ত করা ও নতুন বিশেষজ্ঞ আনার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিয়োগকর্তারা সবচেয়ে কঠিন দক্ষতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন শিল্প-নির্দিষ্ট জ্ঞানকে (৪৭ শতাংশ), সফটওয়্যার দক্ষতাকে (৪২ শতাংশ) এবং নেতৃত্বের সক্ষমতাকে (৪০ শতাংশ)।

কর্মীদের আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়েছে। নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের ২০২৬ সালের তথ্য অনুসারে, বর্তমান চাকরি হারালে নতুন কাজ পাওয়ার সম্ভাব্যতার গড় মান ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৪৩.১ শতাংশে নেমে এসেছে—যা আগের বছরের তুলনায় ৪.২ শতাংশ কম। ২০১৩ সালে জরিপ শুরু হওয়ার পর এটি সর্বনিম্ন রেকর্ড। বিশেষ করে ছয় অঙ্কের নিচে আয়কারীরা, কলেজ ডিগ্রিবিহীনরা এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী বেবি বুমাররা—যারা অবসরের দ্বারপ্রান্তে—এই মুহূর্তে চাকরি খোঁজার আত্মবিশ্বাসে সবচেয়ে পিছিয়ে।

গ্লাসডোরের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল ঝাও এ বছরের শুরুতে ফর্চুনকে বলেছিলেন, আমেরিকানরা মনে করছেন না যে বর্তমান শ্রমবাজার তাদের জন্য কাজ করছে। তাঁর বিশ্লেষণে, নিম্ন আয়ের বা আনুষ্ঠানিক শিক্ষাবিহীন কর্মীরা ব্যবসায়িক চক্রের ওঠানামার প্রতি বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় অর্থনৈতিক মন্দার ইঙ্গিতে তাদের উদ্বেগ বেড়ে যায়।

চাকরির আবেদন এখন দীর্ঘস্থায়ী সংখ্যার খেলায় পরিণত হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ২০২৫ সালের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী জেন-জেড ও মিলেনিয়ালরা গড়ে ১৯ সপ্তাহ (প্রায় পাঁচ মাস) বেকার থাকেন। ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী জেন-এক্স ও বেবি বুমারদের বেকারত্বের গড় সময়কাল ২৬ সপ্তাহ—অর্থাৎ অর্ধ বছরের বেশি। জেন-এক্স ও বেবি বুমারদের মধ্যে যারা অন্তত একবার ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্যে ২৪ শতাংশ নতুন চাকরি খুঁজে পাননি। যারা সুযোগ পেয়েছেন, তাদের মধ্যেও ১১ শতাংশকে কম বেতনে কাজ মেনে নিতে হয়েছে।

এই প্রতিবেদন প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ফর্চুন ডট কমে। শ্রমবাজারের এই দ্বৈত চিত্র—একদিকে নিয়োগের নতুন প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে কর্মীদের গভীর অনিশ্চয়তা—আগামী সময়ে মার্কিন অর্থনীতির দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।