রাজধানীর বকশীবাজার এলাকায় অবস্থিত সরকারি মাদ্রাসা–ই–আলিয়ায় (আলিয়া মাদ্রাসা) মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা এলাকা ছেড়ে চলে যান। এর আগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সঙ্গে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। শিবির সরে যাওয়ার পর মাদ্রাসার একমাত্র আবাসিক হল আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলে প্রবেশ করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। তারা হলের ভেতরে ঢুকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে শিবিরের নিয়ন্ত্রণে থাকা বেশ কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুর করেন। এ সময় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হককে মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে। পরে হলের ভেতরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়া হয় এবং ফটকগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা।
সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সকালে আয়োজিত একটি সেমিনারকে কেন্দ্র করে। সেই সেমিনারে ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির মধ্যে সংঘর্ষের পর থেকেই আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বেলা তিনটার দিকে প্রথম দফায় ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়, যাতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। এরপর ছাত্রদল মাদ্রাসার বাইরে এবং শিবিরের নেতা-কর্মীরা ভেতরে অবস্থান নেন। প্রায় দুই ঘণ্টা সংঘর্ষ থেমে থাকলে সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
দ্বিতীয় দফায় বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে আবারো সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে মাদ্রাসার সামনের সড়কে উভয় পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চালায়। এ সময় সাত থেকে আটটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। সংঘর্ষে শিবিরের চারজন এবং ছাত্রদল ও যুবদলের দুজনকে মারধর করতে দেখা যায়। পুলিশ সদস্যরা দুই পক্ষের মাঝে অবস্থান নিলেও তাদের সংখ্যা কম থাকায় সংঘর্ষ থামাতে ব্যর্থ হন। পরে পুলিশের উপস্থিতি বাড়লেও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া অব্যাহত থাকে।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর পূর্বের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক দাউদ খান জানান, সংঘর্ষে তাদের ২৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তিনি ছাত্রদল ও যুবদলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ এনে বলেন, ফুয়াদ নামে এক কর্মীর মাথায় ১২টি সেলাই দেওয়া লেগেছে, তার অবস্থা সংকটাপন্ন। অপরদিকে ছাত্রদলের ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা শাখার নেতা সাদ চৌধুরী দাবি করেন, শিবিরের হামলায় তাদের ৩০ জনের বেশি নেতা-কর্মী আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর।
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকশ নেতাকর্মী আলিয়া মাদ্রাসার হলে প্রবেশ করেন। সে সময় পুলিশ সদস্যরা বাইরে অবস্থান করছিলেন। হলে প্রবেশের পর ছাত্রদলের এক কর্মী জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্যই হল তালাবদ্ধ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে সব ঠিক হলে খুলে দেওয়া হবে।

