দলীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) নৈতিক আচরণ, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আর্থিক ও অন্যান্য প্রলোভন এড়িয়ে সংসদ এবং সংসদের বাইরে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দিয়েছেন তিনি। রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়–সংলগ্ন আল ফালাহ মিলনায়তনে গত সোমবার দলটির নির্বাচিত ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদদের নিয়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত চলা এই বৈঠকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সূত্রের তথ্যমতে, সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালন, আচরণ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা প্রদান করাই এই বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনায় নৈতিক মান বজায় রাখার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে। বৈঠকে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, সংগঠনের আদর্শিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ মেনে চলা অপরিহার্য। দলের গঠনতন্ত্রে বর্ণিত নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার কারণে কেউ বিশেষ সুবিধা পাবেন—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। নৈতিকতার প্রশ্নে সবার জন্য সমান মানদণ্ড প্রযোজ্য হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পাশাপাশি, সংসদের ভেতরে এবং বাইরে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা দেন জামায়াত আমির। তিনি সাংসদদের আশপাশের মানুষ ও তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। বৈঠকে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াত নেতাদের কর্মকাণ্ডের আলোচিত হওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্রের মতে, আলোচনায় কয়েকজন নেতা অভিমত প্রকাশ করেন যে, জামায়াতের কোনো নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে দ্রুত আলোচনায় আসে। তবে সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও সেগুলো একই মাত্রায় আলোচিত হয় না বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন। এই প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগত আচরণ, আর্থিক লেনদেন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের ওপর জোর দেন জামায়াত আমির।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, শফিকুর রহমানের বক্তব্য ছিল, নেতা-কর্মীদের এমন আচরণ করতে হবে যাতে দল ও জনগণের আস্থার কোনো ক্ষতি না ঘটে। বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান, সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত সহকারী, চালক, পিয়নসহ ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিস্তারিত পরিচয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেন জামায়াত আমির। সাংসদদের কোনো বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য না জেনে সংসদে, গণমাধ্যমে বা দলীয় কর্মসূচিতে বক্তব্য না দিতেও বলা হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সংসদীয় কার্যপ্রণালি, আইন প্রণয়ন এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের তাগিদ দেন শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তাদের সমস্যা সংসদে তুলে ধরার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
বৈঠকে উপস্থিত জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক সদস্য জানান, আলোচনায় জনগণ ও দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংসদীয় কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধি, সাংগঠনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতের আমির।


