গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের একাংশের বড় ধরনের পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও গোবিন্দপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মফিজুর রহমান (ফরিদ) মুন্সীর নেতৃত্বে মোট ৪১ জন নেতা-কর্মী দলের সব সাংগঠনিক দায়িত্ব ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

গত সোমবার রাত আটটার দিকে গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান মফিজুর রহমান মুন্সী। তিনি তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই তাঁরা এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও গোবিন্দপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর আগামী ৩ আগস্ট থেকে তাঁরা দলের কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

ফরিদ মুন্সী আরও বলেন, এটি সম্পূর্ণ তাদের ব্যক্তিগত বিবেচনায় নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করার আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য নেতারাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন। তবে কেউই তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা বা অন্য কোনো দলে যোগদানের ইঙ্গিত দেননি।

পদত্যাগকারী নেতা-কর্মীদের তালিকায় যারা রয়েছেন তারা হলেন: মফিজুর রহমান (ফরিদ) মুন্সী, সাইদুল ইসলাম (সাবু), আবু জারা কাজী, কামরুল মুন্সী, রক্তন, মানিক মুন্সী, সজীব মুন্সী, মোজাফফর হোসেন, আসাদুজ্জামান (মন্টু), রফিক শেখ, শাহাবুদ্দিন শেখ, আবুবকর মুন্সী, শেখ আজগর, বাদল শেখ, রিপন শেখ, হান্নান কাজী, আবদুল হাই শেখ, জিন্নাত শেখ, আনিস শেখ, জাকের আলী, তৈয়বুর, শহীদ শেখ, আশরাফ আলী, রুহুল আমিন, টিটুল মুন্সী, সোলেমান ফকির, ফিরোজ ফকির, লায়েকুজ্জামান (জামান), আলাল মুন্সী, বাবুল হোসেন, মনির মুন্সী, ওহিদুজ্জামান, ফরিদ শেখ, ওহিদ গাজী, লঞ্জুর অস্কার, আবুল হাসান (ঝন্টু) মুন্সী, আমিনুল ইসলাম, রুকু মিয়া, সাকায়েত লস্কর ও খায়ের মোল্লা।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি গোপালগঞ্জ জেলা ও এর অন্তর্গত বিভিন্ন উপজেলায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এরই প্রেক্ষাপটে এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।