আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে প্রথম পদার্পণ করেই সাফল্যের মুখ দেখল ঢাকার করপোরেট ক্লাব ফর্টিস এফসি। আজ বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রাথমিক প্লে-অফ পর্বে কিরগিজস্তানের লিগ রানার্সআপ মুরাস ইউনাইটেডকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে তারা। ঘরের মাঠের সমর্থন ও কৌশলী খেলার সমন্বয়ে দলটি ইতিহাস গড়ল।
ম্যাচের গোড়া থেকেই দুই দলই রক্ষণকে প্রাধান্য দিয়ে মাঠে নামে। মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চললেও প্রথমার্ধে ফর্টিসই বেশি আক্রমণাত্মক ছিল। গাম্বিয়ান অধিনায়ক পা ওমর বাবুর একটি শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারে লেগে ক্রসবারে আঘাত করলে গোলবঞ্চিত হয় স্বাগতিকরা। তবে সফরকারীদের জন্য বড় ধাক্কা আসে ৩৭তম মিনিটে, যখন তাদের মূল আক্রমণভাগের খেলোয়াড় জাপারভ আমির চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। প্রথমার্ধের শেষদিকে ফর্টিসের গোলকিপার সুজন পেরেইরা একটি বিপজ্জনক শট ঠেকিয়ে দলকে ম্যাচে রাখেন।
বিরতির পর ম্যাচের রূপ পাল্টে যায়। ৫২তম মিনিটে দারুণ এক স্বতন্ত্র প্রচেষ্টায় গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আবাহনী থেকে ধারে আসা ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম। মাঝমাঠ থেকে ড্রিবলিং করে বক্সে ঢুকে পা ওমর বল পাস দেন ইব্রাহিমকে, যিনি জোরালো শটে বল জালে জড়ান। এর কিছুক্ষণ পরেই নেপালের অনন্ত তামাংয়ের কর্নার শট ঠেকিয়ে দেন মুরাস গোলকিপার।
পিছিয়ে পড়ার পর মুরাস ইউনাইটেড সমান তালে ফেরার চেষ্টা চালায়, কিন্তু ফর্টিসের রক্ষণ ও গোলকিপার সুজন পেরেইরা দৃঢ় থাকেন। ৭৪তম মিনিটে ম্যাচে নাটকীয়তা তৈরি হয়; নেপালের আরিক বিস্তার বক্সে ফাউলের শিকার হলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। কিন্তু সাইড পোস্টে লেগে শট ফিরে এলে রক্ষা পায় ফর্টিস।
গ্যালারিতে দুই হাজারের বেশি দর্শক উপস্থিত ছিলেন; ঢাক-ঢোলের তালে সমর্থকরা পুরো ম্যাচ দলকে উজ্জীবিত করেন। উল্লেখ্য, গত বছর এই সময়ে ঢাকা স্টেডিয়ামে একই প্রতিযোগিতায় আবাহনী কিরগিজ ক্লাবের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল। এবার ফর্টিস সেই আক্ষেপ ঘোচাল। গ্রুপ পর্বের ড্র এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত হবে। একই প্রতিযোগিতায় আজ রাতে জর্ডানে মাঠে নামছে পুলিশ এফসি।




