বৃহস্পতিবার ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে অ্যালেক্স ক্যারির ব্যাটিং পজিশন। ৩৪ বছর বয়সী এই উইকেটকিপারের সাম্প্রতিক ফর্ম অসাধারণ হলেও দলের মিডল অর্ডারে জায়গা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।
২০২৫ সালের শুরু থেকে ক্যারির ব্যাটিং গড় ৪৭-এর বেশি, যা তার ক্যারিয়ার গড় ৩৫.৮৯-এর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো। গত ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৫৬ রানের ইনিংস এবং অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৬ ও ৭২ রানের ম্যাচজয়ী দুই ইনিংস তার বর্তমান ফর্মের প্রমাণ। ছয় নম্বর পজিশনে তার শেষ ছয় ইনিংসে গড় ৮০.৭৫ — যা দল নির্বাচকদের ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উসমান খাজার অবসরের পর চার নম্বর থেকে নিচের দিকে পুরো মিডল অর্ডারেই নতুন করে সাজাতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে। স্টিভ স্মিথ চার নম্বরে খেলবেন, কিন্তু পাঁচ থেকে সাত নম্বরের মধ্যে বো ওয়েবস্টার, ক্যামেরন গ্রিন, জশ ইংলিস এবং ক্যারি — এই চারজনের মধ্যে তিনজনকে বেছে নিতে হবে। সোমবার সাংবাদিকদের কাছে ক্যারি স্বীকার করেছেন, এখনো ব্যাটিং অর্ডার চূড়ান্ত হয়নি।
“এখনো ঠিক হয়নি। আমরা এখনো তিন দিন দূরে আছি, আগামী তিন দিনে আরও তথ্য পাব। দুই অলরাউন্ডার, ইংলিস এবং আমি — অনেক অপশন আছে। আমরা সবাই মিডল অর্ডারে থাকব, এটুকু বলতে পারি। পাঁচ থেকে সাতের মধ্যেই আমি নামব,” — বলেছেন ক্যারি।
ক্যারি জানিয়েছেন, ব্যাটিংয়ে তার উন্নতির পেছনে কোনো বড় টেকনিক্যাল পরিবর্তন নয়, বরং মানসিক দৃষ্টিভঙ্গিই প্রধান ভূমিকা রেখেছে। কিপিংয়ের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি সামনের ১২ মাসে ২১টি পর্যন্ত টেস্ট খেলার সম্ভাবনা রয়েছে তার — যা অস্ট্রেলিয়ার কোনো উইকেটকিপারের জন্য এক বছরে সবচেয়ে বেশি ম্যাচের রেকর্ড হতে পারে। এই চ্যালেঞ্জকে ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন তিনি।
মজার বিষয় হলো, মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে খেললেও এখনো বাংলাদেশের বিপক্ষে কোনো টেস্টে খেলেননি ক্যারি। বাংলাদেশ দল অবশ্য আশা করবে, ক্যারি যেন তার বর্তমান ফর্মটা ধরে রাখতে না পারেন এবং এই টেস্টে তার ব্যাটিং যেন দলের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।




