জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের মঙ্গলবার রংপুরের দর্শনা মোড়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে দিনের বেলা ভোট গ্রহণ করা হলেও রাতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। আর ২০২৪ সালের নির্বাচন আরও বেশি অনিয়মের শিকার হয়েছে বলে দাবি করেন জি এম কাদের। তার মতে, দিনের বেলায় ভোট গ্রহণ শুরু হলেও তা রাত, পরের দিন সকাল, দুপুর, রাত—এভাবে দীর্ঘায়িত হয়। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভোটার ব্যালট না থাকলেও নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে বিপুল ভোট গণনা করা হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি এই নির্বাচনকে একতরফা ও ইঞ্জিনিয়ার্ড বলে আখ্যা দেন এবং বলেন, স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা হয়নি। এই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জামায়াত-শিবির, বিএনপি ও তাদের সহযোগীদের যোগসাজশ ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের মধ্যে চলমান ভাগ-বাঁটোয়ারা প্রসঙ্গে জি এম কাদের মন্তব্য করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই দুই দলের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী সবকিছু সম্পন্ন হবে। বর্তমানে তারা প্রকাশ্যে সমালোচনা করলেও ভেতরে ভেতরে নেতাদের মধ্যে বোঝাপড়া বিদ্যমান। তিনি আরও বলেন, এই জোট একদল হিসেবে কাজ করছে এবং তাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই।
বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জি এম কাদেরের ভাষ্য, এখন আর শুধু আওয়ামী লীগের লোকজনকে হত্যা করা হচ্ছে না; বরং নির্বিচারে মানুষকে পিটিয়ে হত্যা, ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হচ্ছে। একজন মানুষকে তার সর্বস্ব হারাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে মানুষকে শুধু গ্রেফতার বা নির্যাতন করা হতো, কিন্তু এখন হত্যা ও সম্পদ ধ্বংসের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে।
গত বছরের জুলাই গণ-আন্দোলন সম্পর্কে জি এম কাদের বলেন, এটি সফল বা বিফল নয়, বরং অসমাপ্ত। জনগণ বৈষম্যমুক্ত সমাজ ও জবাবদিহিমূলক সরকারের জন্য এই আন্দোলন করেছিল, কিন্তু সেই লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হলে অচিরেই নতুন করে আন্দোলন শুরু হবে। মানুষের জানমাল ও ইজ্জতের কোনো নিরাপত্তা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই শোকসভায় দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী, কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমানসহ অন্য নেতারা স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন।



