দেশের নানা প্রান্তে ঘুরে ‘ইত্যাদি’ ধারণের ধারা অব্যাহত রেখেছেন নির্মাতা হানিফ সংকেত। এবার এই জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরকে। ৩১ জুলাই, শুক্রবার রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হবে এই বিশেষ পর্ব। অনুষ্ঠানটি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিঙ সংকেত।

নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ফাগুন অডিও ভিশনের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার শতবর্ষী দালাল বাজার জমিদারবাড়ির স্মৃতিবিজড়িত নবীন কিশোর উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে বসানো হয়েছে নান্দনিক মঞ্চ। অনুষ্ঠান ধারণকে ঘিরে পুরো জেলায় ছিল উৎসবের আমেজ। দুপুরের পর থেকেই দর্শকরা ভিড় জমাতে শুরু করেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই মঞ্চ এলাকা দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। শুধু সদর উপজেলা নয়, জেলার অন্যান্য প্রান্ত এবং পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও নানা বয়সী ও পেশার মানুষ এই আয়োজনে অংশ নেন।

এবারের ‘ইত্যাদি’তে স্থান পেয়েছে দুটি বিশেষ সংগীত পরিবেশনা। লক্ষ্মীপুরের শিল্পী তানজিনা রুমা এবং ফেনীর সাজিয়া সুলতানা পুতুল গান দুটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন। কবির বকুলের লেখা গানের সুর করেছেন আকাশ মাহমুদ। পাশাপাশি জেলার ঐতিহ্য তুলে ধরে রয়েছে একটি নৃত্যগীত পরিবেশনা। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা। তানজিনা রুমা ও রাজিবের কণ্ঠে এই গানের কোরিওগ্রাফি করেছেন এস কে জাহিদ, যেখানে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় নৃত্যশিল্পীরা।

দর্শক পর্বে লক্ষ্মীপুর বিষয়ক প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে চারজন দর্শক নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় ধাপে তারা লক্ষ্মীপুরের কৃতি সন্তান, অভিনেত্রী দিলারা জামানের সঙ্গে অভিনয়ে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ এভারেস্টজয়ী প্রথম বাংলাদেশি নারী নিশাত মজুমদারের বিশেষ সাক্ষাৎকার। কাশেম টিভির প্রতিনিধি ও নাতির সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এভারেস্ট অভিযানের স্মৃতি ও ‘ইত্যাদি’র প্রতি ভালোবাসার কথা জানান।

প্রতিবারের মতো এবারও রয়েছে একাধিক মানবিক ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। লক্ষ্মীপুরের বিস্তীর্ণ সয়াবিন ক্ষেত, নারকেল ও সুপারি বাগান, জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হবে। এছাড়া একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে শিক্ষামূলক প্রতিবেদন এবং নদীভাঙন ও নদীকেন্দ্রিক জীবিকার পরিবর্তনে নিঃস্ব হয়ে পড়া এক মাঝির জীবনসংগ্রাম নিয়ে মানবিক প্রতিবেদনও রয়েছে।

বিদেশি পর্বে দর্শকরা দেখতে পাবেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে ফেরা সৈনিকদের উদ্যোগে তৈরি বিশ্বের অন্যতম দর্শনীয় উপকূলীয় সড়ক ও দীর্ঘতম যুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ‘গ্রেট ওশান রোড’। নিয়মিত ‘চিঠিপত্র’ পর্বের পাশাপাশি সামাজিক অসংগতি ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক নাট্যাংশ থাকবে। এসব নাট্যাংশে অভিনয় করেছেন আবদুল আজিজ, সুভাষীষ ভৌমিক, সোলায়মান খোকা, মুকিত জাকারিয়া, কামাল বায়েজিদ, আজম খান, আবদুল্লাহ রানা, জিল্লুর রহমান, বড়দা মিঠু, শরাফ আহমেদ জীবন, সুমন পাটোয়ারী, আনন্দ খালেদ, সাজ্জাদ সাজু, নূরে আলম নয়ন ও সুজাত শিমুলসহ অনেকে।