পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুরে ১৯৭৫ সালের ১৮ জানুয়ারি এক শিখ পরিবারে মনিকা বেদির জন্ম। বাবার চাকরিসূত্রে পরিবারটি নরওয়েতে বসবাস শুরু করলে সেখানেই তাঁর পড়াশোনা সম্পন্ন হয়। কিন্তু অভিনয়ের টানেই তিনি একসময় ভারত ফিরে আসেন। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে চলচ্চিত্রে হাতেখড়ি হলেও প্রাথমিক সাফল্যটা আসে দক্ষিণ ভারতীয় ও পাঞ্জাবি সিনেমার হাত ধরে। ‘সুরক্ষা’, ‘জোড়ি নম্বর ওয়ান’ ও ‘পেয়ার ইশক অউর মোহাব্বত’-এর মতো হিন্দি ছবি তাকে বলিউডে ধীরে ধীরে নজরে এনে দিয়েছিল। অনেকেই ভেবেছিলেন, এই অভিনেত্রীর পথচলা হবে দীর্ঘ।

তবে নব্বইয়ের দশকের শেষে এক সাংস্কৃতিক আসরে তার পরিচয় ঘটে ভারতের কুখ্যাত পলাতক অপরাধী আবু সালেমের সঙ্গে। দ্রুতই তা নিবিড় সম্পর্কে রূপ নেয়। সে সময় আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন হিসেবে আবু সালেমের নাম বলিউডে অর্থায়ন, চাঁদাবাজি ও তারকাদের ভয় দেখানোর অভিযোগে জড়িত ছিল। ১৯৯৩ সালের মুম্বাই বিস্ফোরণ মামলার অন্যতম অভিযুক্তও ছিল সে। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে মনিকা দাবি করেন, প্রথমে সালেম নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তু সম্পর্কটি প্রকাশ হওয়ার পরই মনিকার ক্যারিয়ার ভাগাড়ে পড়তে থাকে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাব নিয়ে তৎকালীন বলিউডে নানা আতঙ্ক ছিল, আর এক অভিনেত্রীর নাম সরাসরি এক ডনের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ার ফলে প্রযোজক ও নির্মাতারা তার সঙ্গে কাজ করতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। কাজের প্রস্তাব ক্রমেই বন্ধ হতে লাগল।

২০০২ সালে পুরো চিত্রটা বদলে যায়। পর্তুগালের লিসবনে ভুয়া পরিচয় ও জাল পাসপোর্ট নিয়ে অবস্থানের অভিযোগে স্থানীয় পুলিশ আবু সালেম ও মনিকা বেদিকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে স্পষ্ট হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর তাদের ভারতের হাতে প্রত্যর্পণ করা হয়। ভারতে ফিরে মনিকার বিরুদ্ধে জাল কাগজপত্র ব্যবহারের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করলেও, আন্ডারওয়ার্ল্ডের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ আদালতে টেকে না। সাজা ভোগের পর তিনি মুক্তি পেলেও জনমনে তিনি শুধু বিতর্কিত এক চরিত্র হয়ে ওঠেন।

মুক্তির পর টেলিভিশনের রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’ ও কিছু ধারাবাহিকে অভিনয়ের দরজা খুললেও বলিউডে তাঁর পুরনো জায়গা আর ফিরে আসেনি। বিতর্কের কালিমা থেকে বের হতে পারেননি তিনি। একটি সাক্ষাৎকারে মনিকা বলেছিলেন, একটি সম্পর্কের কারণে জীবনের সবচেয়ে বড় মূল্য তাকে পরিশোধ করতে হয়েছে। নিজের প্রেম, ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক শান্তি – সবই কেড়ে নিয়েছে সেই সম্পর্ক। নিজের পরিচয় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও অতীতের ছায়া তাকে কখনোই পুরোপুরি ছেড়ে যায়নি।